কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা ছাত্র অধিকার পরিষদের কিছু কর্মীর নতুন সংগঠনের ঘোষণাকে ‘চলমান ষড়যন্ত্রের অংশ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এর ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খাঁন। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ‘মানুষের আবেগ নিয়ে নোংরা রাজনীতির’ অভিযোগ তুলে ‘ছাত্র অধিকার পরিষদ’ ভেঙে আলাদা কমিটি ঘোষণা করে একটি অংশ।
সংগঠনটির ‘বহিষ্কৃত’ যুগ্ম আহ্বায়ক এ পি এম সুহেলের নেতৃত্বে ‘সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ নামে ২২ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সংবাদ সম্মেলন করে নুরবিরোধীরা নতুন কমিটি ঘোষণা করেন। তারা নুরের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তোলেন।
এরপর দেওয়া এক বিবৃতিতে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আমরা গণমাধ্যম মারফর জানতে পেরেছি যে, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সংগঠনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকায় বহিষ্কৃত এপিএম সুহেল বিভিন্ন সংগঠনের কয়েকজনকে নিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের পূর্ববর্তী নাম ব্যবহার করে একটি কমিটি ঘোষণা করেছে। যেখানে ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ মধু, ইসমাইল সম্রাট এবং চাকরির বয়স ৩৫ করা আন্দোলনের একাংশের মুজাম্মেল মিয়াজীসহ কয়েকজনের উপস্থিতি দেখা গেছে’।
রাশেদ খাঁন দাবি করেন, অতীতে আমাদের কিছু আন্দোলনে তাদের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হলেও, তাদের কেউ আমাদের সংগঠনে যুক্ত নন। আমরা মনে করি, তাদের এই কর্মকাণ্ড আমাদের পথচলাকে ব্যাহত করতে সরকারের দমন-পীড়ন এবং চলমান ষড়যন্ত্রেরই একটি অংশমাত্র।
এ ভাঙনের বিষয়ে নুরুল হক নুর বলেন, ‘এপিএম সুহেল ছাড়া নতুন সংগঠনের কমিটিতে থাকা বাকিরা কেউই আমার সংগঠনে ছিলেন না। আর সুহেলকে আগেই সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।’
তিনি গণমাধ্যমকে আরো বলেন, ‘আমাদের ধারণা, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা বা প্ররোচণায় আমাদের চাপে ফেলতে এই কাজ করানো হয়েছে। আমাদের অপরাধ হলো সরকারের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলা। তবে নতুন সংগঠন করা সবার গণতান্ত্রিক অধিকার। জনগণ বিবেচনা করবে কোনটি আসল আর কোনটি নকল সংগঠন।’