যুক্তরাষ্ট্র দিল্লির চোখে বাংলাদেশকে দেখে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।
তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র দিল্লির চোখ দিয়ে বাংলাদেশকে দেখে, এটি আমাদের মিডিয়া বলে। আসলে তারা দিল্লির চোখে দেখে না। আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। সবাই জানে আমাদের মূল্যবোধ ও নীতি আছে। আমাদের অবস্থান সব সময় স্বাধীন। আমরা দেশের স্বার্থের জন্য যা যা দরকার, তাই করব। সে জন্য তারা আমাদের স্বাধীনভাবে দেখছে, দিল্লির চেহারা দিয়ে আমাদের দেখে না’।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা সফররত মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন বিগানের সঙ্গে আলোচনার পর সাংবাদিকদের এসব বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
আবদুল মোমেন বলেন, ‘শুধু দিল্লির চেহারা দিয়ে দেখলে এখানে আসতেন না। এখানে তারা এসেছেন আমাদের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য। বাংলাদেশের সঙ্গে তারা বন্ধুত্বটা আরো গভীর করতে চান। বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে মার্কিন বিনিয়োগ, শিক্ষার্থীদের ভিসার সমস্যা, বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে দেওয়া এবং সমুদ্র অর্থনীতি ও জলবায়ু সংক্রান্ত বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাওয়া হয়েছে’।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরতের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। স্টিফেন বিগান আমাদের জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের অ্যাটর্নি জেনারেল দেখছেন। বৈঠকে ইন্দো-প্যাসিফিক নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি’।
ডিফেন্স কো-অপারেশন বা মার্কিন অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব সংক্রান্ত মন্ত্রীর নিজের বক্তব্যের সূত্র ধরে গত কয়দিন ধরে গণমাধ্যমে লেখালেখি চলছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল মোমেন বলেন, ‘তা নিয়ে তার সঙ্গে বৈঠকে কোনো কথাই হয়নি। ডিফেন্স কো-অপারেশন বা অন্য বিষয়ে আপনারা কয়েক দিন ধরে যেটা লিখেছেন, তা নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি’।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় সন্তুষ্ট যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায়। বাংলাদেশ এবং আমেরিকার সম্পর্ক দিন দিন সুদৃঢ় হচ্ছে। এই উন্নতি অব্যাহত থাকবে, তা নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।
অত্যাসন্ন মার্কিন নির্বাচনের ক্যাম্পেইনের এই চরম ব্যস্ততম মুহূর্তে স্টেট ডিপার্টমেন্টের নম্বর টু’র বাংলাদেশ সফরের তাৎপর্য কী এবং কেন তিনি ভারত হয়ে বাংলাদেশে এলেন, ‘এমন প্রশ্নের জবাবে আলাদা ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, পারসেপশন যা-ই হোক, বাংলাদেশকে স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং এ দেশের স্বকীয়তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব করে’।