ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্পর্ক স্থাপনের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে অন্য আরব রাষ্ট্রগুলোও ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে শুরু করেছে। এ স্বীকৃতি দানের মধ্য দিয়ে ক্রমেই ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ইস্যু ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। আরববিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব বেশ শক্তিশালী। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন বহুদিন ধরেই চাইছে ইসরায়েলকে যেন স্বীকৃতি দেয় সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সেই খায়েশ এতদিন পূরণ হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকরা।
সৌদি আরবও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। গত বুধবার ওয়াশিংটনে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য সৌদি সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
মাইক পম্পেও বলেন, আমাদের প্রত্যাশা সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করবে। আমরা এখনো আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গে ইসরায়েলের চুক্তি সফল করতে রিয়াদের সহায়তার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। এ চুক্তি আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনার জন্য ফিলিস্তিনি নেতাদের চাপ দিতে সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানান পম্পেও।
একসময় আরব মিডিয়ায় ইসরায়েলকে আখ্যায়িত করা হতো ইহুদিবাদী শক্তি হিসেবে। সেই দিন বদলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি প্রভাব বলয়ের দেশগুলো ধীরে ধীরে ফিলিস্তিনকে ছুড়ে ফেলে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। রিয়াদের মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন এরই মধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছে। আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর আরও কয়েকটি আরব দেশ ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সাত থেকে নয়টি দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপন করবে। এর মধ্যে সৌদি আরবও রয়েছে। যথাযথ সময়ে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসবে। তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়ে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে সৌদি আরবকে আহ্বানের চেয়ে চাপ প্রয়োগ করছে বেশি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।