কলারোয়ায় চার খুন: নিহত শাহিনুরের ভাই গ্রেপ্তার

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলসি গ্রামে স্বামী-স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ চারজনকে নৃশংস হত্যার ঘটনায় নিহত শাহিনুরের ভাই রাহানুরকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।

শুক্রবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে কাছে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি ইন্সপেক্টর তরিকুল ইসলাম জানান, নিহত শাহিনুরের ভাই রায়হানুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং তাকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

তিনি জানান, রাহানুরের (২৮) রিমান্ড আবেদনের জন্য শুনানির রবিবার দিন ধার্য করেছে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব কুমার রায়।

এর আগে বৃহস্পতিবার ভোররাতে লোমহর্ষক এ ঘটনায় কলারোয়া থানায় মামলা দায়ের করেন নিহত শাহিনুরের শাশুড়ি কলারোয়ার ওফাপুর গ্রামের রাশেদ গাজির স্ত্রী ময়না বেগম। মামলায় তিনি কারো নাম উল্লেখ করেননি।

মামলা কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারান চন্দ্র পাল জানান, মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব ইতিমধ্যে সিআইডির ওপর দেওয়া হয়েছে। এরপরও যেকোনো প্রয়োজনে কলারোয়া থানা অপরাধীদের চিহ্নিত করতে ও মাঠ তদন্তে সব রকম সহায়তা দেবে।

অপরদিকে এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ঘটনাস্থল ওই বাড়িতে এখনো কৌতূহলী মানুষের ভিড় কমেনি। সাতক্ষীরা-যশোর সড়কের ধারে পুরো বাড়ি ও পাড়াজুড়ে থমথমে ভাব বিরাজ করছে। ঘাতকের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া চার মাসের শিশু মারিয়া সুলতানার দায়িত্ব নিয়েছেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামাল।

তিনি ওই শিশুর চিকিৎসা ও বেড়ে ওঠার সব ব্যয়ভার বহন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

শিশুটি বর্তমানে হেলাতলা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য নাসিমা খাতুনের হেফাজতে রয়েছে।

এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে শাহীনুর, তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন, ছেলে সিয়াম হোসেন মাহী ও মেয়ে তাসনিম সুলতানার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতেই নিকটস্থ ব্রজবাকসা গ্রামে শাহিনুরের মামা আবদুল কাদেরের পারিবারিক গোরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।

বৃহস্পতিবার ভোর রাতে কলারোয়ার হেলাতলা ইউনিয়নের খলিসা গ্রামের শাহাজান আলীর ছেলে মৎস্য হ্যাচারির মালিক শাহিনুর, তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন, ছেলে সিয়াম হোসেন মাহী ও মেয়ে তাসনিম সুলতানাকে জবাই করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

এদিকে হত্যার কারণ নিয়ে নানা কথা চলছে চারদিকে। স্থানীয় হেলাতলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, শাহিনুর ও রাহানুরের সঙ্গে স্থানীয় এক মাদক ব্যবসায়ীর দ্বন্দ্ব রয়েছে।

আবার অনেকে দুই ভাইয়ের কোনো ধরনের বিবাদ থাকতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন।

এ ছাড়া তার মা সাহিদা ও বোন আছিরা বেগম বলেন, এই হত্যাকাণ্ড প্রতিবেশী আকবরের সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে তারা মনে করেন।

তবে প্রতিবেশী আকবর বলেন, তিনি একজন হৃদরোগী, তার হার্টে রয়েছে ছিদ্র, শারীরিক ভাবে দুর্বল এবং নিজের কোনো পুত্র সন্তান নাই।

তিনি এ ঘটনার বিচার ও তদন্ত চান এবং খুনিদের শাস্তি দাবি করেন।