লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আকতার খন্দকারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সংঘর্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী আকতার খন্দকার ও তার স্ত্রীসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে উপজেলার গড্ডিমারী এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দু’পক্ষই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে এবং এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দায়ী করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০ অক্টোবর ইউনিয়নের উপনির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। কয়েক দিন আগে ইউনিয়নের একটি চর এলাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের গণসংযোগে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে স্বতন্ত্র প্রার্থী আকতার খন্দকারের সমর্থকের বিরুদ্ধে। গতকাল শুক্রবার আকতারের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা রানী গড্ডিমারী মেডিকেল মোড় এলাকায় গণসংযোগে গেলে তাতে বাধা দেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা।
এ খবর জানতে পেরে আকতার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সেখানে গিয়ে মিছিল বের করেন। এ সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর লোকজন মিছিলে হামলা চালালে আকতার খন্দকার ও তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতনাসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সম্প্রতি মারা যান গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান। এ কারণে আগামী ২০ অক্টোবর এ পদে উপনির্বাচন হবে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান প্রয়াত আতিয়ার রহমানের ছেলে ও হাতীবান্ধা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামল। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সফিকুল ইসলামসহ স্বতন্ত্র প্রার্থী আকতার খন্দকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আকতার খন্দকার অভিযোগ করেন, ‘আমাকে নির্বাচন করতে প্রথম থেকেই বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ভরাডুবি জেনেই তার লোকজন শুধু আমার লোকজনকেই নয় আমাকেও মারধর করেছে।’
আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামল বলেন, ‘আকতার খন্দকার জামায়াত-শিবিরের প্রার্থী। সে আমাদের লোকজনের ওপর একের পর এক হামলা করেছে।’
হাতীবান্ধা থানার ওসি এরশাদুল আলম বলেন, ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।