চেক ডিজঅনারের মামলা শুধু যুগ্ম-দায়রায়, আপিল দায়রা আদালতে

এখন থেকে চেক ডিজঅনার মামলার শুনানি হবে শুধু যুগ্ম-দায়রা জজ আদালতে। রায়ের বিরুদ্ধে দায়রা জজ আদালতে আপিল দায়ের করতে হবে এবং সেখানেই আপিল নিষ্পত্তি হবে।

এ-সংক্রান্ত তিনটি রিট আবেদনের ওপর জারি করা রুলের শুনানি শেষে রবিবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

এই নির্দেশনা প্রত্যেক জেলা ও দায়রা জজ আদালতকে অবহিত করতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে সব জেলা ও দায়রা জজ এই নির্দেশনা অবহিত হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত অথবা দায়রা জজ আদালতে চলমান ১৩৮ ধারার সব মামলা বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট দায়রা জজ আদালতে প্রেরণ করবে। এ ছাড়া চলমান মামলা বর্তমানে যে পর্যায়ে রয়েছে ওই পর্যায় থেকে পরবর্তী শুনানি চলমান থাকবে বলে হাইকোর্টের নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ কাওছার, মাজেদুল কাদের ও মোজাম্মেল হক।

ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব জানান, এনআইঅ্যাক্ট’র ১৩৮ ধারার চেক ডিজঅনারের মামলা ইতিপূর্বে যুগ্ম-দায়রা জজ এবং অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে শুনানি হতো এবং দায়রা জজ আদালত নির্ধারণ করতেন এটি কোন আদালতে শুনানী হবে।

কোনো মামলায় যদি যুগ্ম-দায়রা জজ আদালত রায় দিতেন তাহলে সাজাপ্রাপ্ত আসামী দায়রা জজ আদালতে আপিল করার সুযোগ পেতেন। কিন্তু একই অপরাধের জন্য একই পরিমাণ শাস্তি হলেও মামলায় যদি অতিরিক্ত দায়রা জজ অথবা দায়রা জজ আদালতে রায় হতো তাহলে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আপিল করতে হাইকোর্টে আসতে হতো।

তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের এ রায়ের ফলে  বিচারপ্রার্থীকে আপিল করতে এখন থেকে হাইকোর্টে আসতে হবে না। এ আইনের অধীনে মামলার বিচার, আপিল এবং রিভিশনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন চলে আসা বৈষম্যমূলক বিধানের অবসান ঘটল। একই সঙ্গে সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের খরচ এবং হয়রানি অনেকাংশে কমবে।’

তিনি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের এ এ এম জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃক চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুগ্ম-দায়রা জজ আদালতে করা তিনটি চেকের মামলার কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক রিট আবেদন করা হয়। ২০১৮ সালে হাইকোর্ট এসব মামলায় পৃথক রুল জারি করে। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ হাইকোর্টের এ নির্দেশনা আসল।