চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। গত শনিবার ৫৫ জন শনাক্তের পর জেলায় এখন আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজার ১১০ জন। এর মধ্যে গত ১৭ দিনেই শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১৪৭ জন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইসোলেশন না মানায় সংক্রমণ ফের বাড়ছে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য মতে, চট্টগ্রামে ৩ এপ্রিল দামপাড়ায় প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রতিমাসেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। চট্টগ্রামে এই পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ২১৪ জনের। এদের মধ্যে করোনা পজিটিভ হয়েছে ২০ হাজার ১১০ জন। এদের মধ্যে নগরীর ১৪ হাজার ৬১৯ এবং উপজেলার ৫ হাজার ৪৯১ জন। চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত করোনায় মারা গেছে ৩০১ জন। তাদের মধ্যে নগরীর ২০৮ ও উপজেলার রয়েছে ৯৩ জন। তবে গত দুদিনে করোনা আক্রান্ত কারও মৃত্যু হয়নি চট্টগ্রামে। শনিবার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ৮টি ল্যাবে ৬১৪ নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ৫৫ জনের পজিটিভ (নগরীর ৪৮ ও উপজেলার ৭ জন) এসেছে।
এদিকে শীতকালে করোনার দ্বিতীয় সংক্রমণের ছোবল থেকে বাঁচতে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও নগরী ও জেলার বাসিন্দারা তা মানছে না। দ্বিতীয় সংক্রমণের আগেই প্রতিদিনই রোগী শনাক্ত হচ্ছে চট্টগ্রামে। মানুষ আইসোলেশন এবং সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি মানছে না বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
জনস্বাস্থ্য অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘কোরবানির ঈদের আগে কয়েক দিন রোগী কমেছিল। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে আবার বৃদ্ধি পায়। এরপর অক্টোবরের শুরু থেকেই সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। তবে সেই অনুপাতে হাসপাতালমুখী রোগী কম। করোনার শুরুতে অনেকে ভয় পেয়ে টেস্ট করাতেন, কিন্তু এখন অনেকে টেস্ট করাতে অনাগ্রহী। ফলে উপসর্গ থাকা অনেকেই করোনা পরীক্ষা না করেই অফিস ও দায়িত্ব পালনে প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছেন। সংক্রমিত করছেন পরিবার ও সহকর্মীদের এটা উন্নতির লক্ষণ না।’ তিনি আরও বলেন, ‘শীত আসার পূর্বেই করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। এটি মূলত স্বাস্থ্যবিধি না মানার ফল।’
চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘জনবহুল স্থানে ভিড় বাড়তে থাকায় এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা থেকেই প্রতিদিনই সংক্রমিত হচ্ছে। বর্তমানে কভিড আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা হলেও বাড়তির দিকে। এক সপ্তাহ যাবৎ লক্ষ্য করছি সংক্রমণ হার ১০ শতাংশের ওপর পার হচ্ছে। আগে সংক্রমণ হার ৬-৮ শতাংশের মধ্যে ছিল। সামনে শীতকালীন মৌসুমে দ্বিতীয় সংক্রমণের যে আশঙ্কা তা থেকে বাঁচতে অবশ্যই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মানার বিকল্প নেই।’