ধর্ষণের ঘটনায় সালিসকে ফৌজদারি অপরাধ ঘোষণা করতে রিট

ধর্ষণের ঘটনা সালিসে মীমাংসা করাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।

সোমবার আইন ও সালিস কেন্দ্রের (আসক) পক্ষে আইনজীবী ইয়াদিয়া জামান হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদনটি করেন।

আবেদনে ধর্ষণের মামলা আইনের বিধান অনুযায়ী ১৮০ কার্যদিবসে মুলতবিহীন নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টের যে নির্দেশনা রয়েছে, তা কঠোরভাবে পালন করা এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০ (৬) ধারা অনুযায়ী ভুক্তভোগী কিংবা তার পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে অথবা আদালতের সম্মতিতে ধর্ষণ মামলার বিচার যাতে রুদ্ধদ্বার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় সে বিষয়ে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া গত ১০ বছরে দেশের থানাগুলোতে কতগুলো ধর্ষণ মামলা হয়েছে এবং কতগুলো বিচারের জন্য আদালতে এসেছে সংশ্লিষ্টদের সে পরিসংখ্যান দেওয়ারও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। 

অ্যাডভোকেট ইয়াদিয়া জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ধর্ষণের ঘটনার অনেক ক্ষেত্রেই দেখা  যায়, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য, স্থানীয় কাউন্সিলরদের নিয়ে সালিসের মাধ্যমে আপস হয়। কিন্তু ফৌজদারি আইনের বিধান অনুযায়ী ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর মামলায় সালিসের মাধ্যমে আপস নিষ্পত্তির কোনো ধরনের সুযোগ নেই। যারা এ ধরনের কাজ করেন তারা ফৌজদারি অপরাধ করছেন। এ বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা চেয়ে আবেদনটি করা হয়েছে।

তিনি জানান, ধর্ষণের ঘটনায় সালিস ও আপসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত ১৩ অক্টোবর আইন সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, নারী ও শিশু বিষয়ক সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শকের উদ্দেশ্যে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তিনি। কার্যতালিকায় আসলে আবেদনটির ওপর শুনানি হবে বলে জানান রিটকারী আইনজীবী।