পাঁচ বছরের মধ্যে অর্ধেক কাজ হবে যন্ত্রনির্ভর

সব ধরনের কাজের অর্ধেকই ২০২৫ সালের মধ্যে যন্ত্রের মাধ্যমে করা যাবে বলে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর ফলে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই থিংক ট্যাংক মনে করে, ‘রোবট বিপ্লবের’ ফলে বিশ্বজুড়ে ৭ কোটি ৭০ লাখ চাকরির সুযোগ শুরু হবে। একই সঙ্গে সমান সংখ্যক মানুষ চাকরি হারাতে পারেন। প্রযুক্তির এই উন্নয়নে কিছু কিছু সম্প্রদায়কে ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে।

ডব্লিউইএফ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মক্ষেত্রে যান্ত্রিকীকরণে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসবে প্রশাসন ও ড্যাটা প্রসেসিং কর্মক্ষেত্রের গতানুগতিক ও ম্যানুয়েল কাজের ক্ষেত্রগুলোতে।

বিপরীতে সেবা, বৃহৎ ড্যাটা প্রসেসিং ও সবুজ অর্থনীতি খাতে কর্মক্ষেত্রের প্রসার ঘটতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে ৮০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এমন ৩০০টির বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের ওপর ভিত্তি করে গবেষণাটি চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউইএফ।

তাতে ৫০ ভাগ নিয়োগ কর্তা জানিয়েছে, তারা তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর কিছু কিছু ক্ষেত্রে যান্ত্রিকীকরণ নিয়ে ভাবছে। তারা মনে করে, এর ফলে ৪৩ শতাংশ কর্মীর চাকরি থেকে ছাঁটাই হতে পারে।

ডব্লিউইএফ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান করোনাভাইরাস মহামারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তি নির্ভর হওয়ার ক্ষেত্রে ধাবমান করছে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর খরচ কমানোর পাশাপাশি কাজ চালিয়ে যাওয়ার নতুন উপায় পাওয়া যাবে। কিন্তু এর ফলে অনেক কর্মী চাকরি হারানোর দ্বিগুণ ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এক হচ্ছে কর্মক্ষেত্র যান্ত্রিকীকরণ ও দুই কভিড-১৯ মহামারির ধাক্কা।

ডব্লিউইএফ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব কাজের এক-তৃতীয়াংশ যন্ত্রধারা করা যায়, বাকিটুকু মানুষ নির্ভর। ২০২৫ সালে সব কাজে যন্ত্র ও মানুষের অংশগ্রহণ দাঁড়াবে ফিফটি-ফিফটি।