জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) দালালচক্রের ১১ সদস্যকে ছয় মাস করে কারাদ- দিয়েছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল বুধবার দুপুরে এ অভিযান চালানো হয়। দ-প্রাপ্তরা হলো মো. জহির, সাগর বসাক, মানিক মিয়া, মো. কাউছার, মো. শরিফ, মানিক, রফিকুল ইসলাম সুমন, আবদুস সালাম, আলতাফ হোসেন, মোছা. আজিরননেছা ও ইয়াসমিন বিবি।
অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু দেশ রূপান্তরকে বলেন, পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার মান ভালো হওয়া সত্ত্বেও দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে রোগীরা হয়রানির শিকার হতেন। সাধারণ রোগীদের মিথ্যা তথ্য ও আশ্বাস দিয়ে হাসপাতালের সামনে থেকেই ভাগিয়ে নিয়ে যেত দালালচক্রের সদস্যরা। তারা রোগীর স্বজনদের বোঝাত, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার মান খুবই খারাপ। সেখানে ভর্তি করলে রোগী বেঁচে ফিরবে না। বেঁচে থাকলেও হাত-পা হারাতে হবে, পঙ্গু হয়ে যাবে। এতে ভয় পেয়ে রোগীদের তাদের পরামর্শে আশপাশের বিভিন্ন বেসরকারি নিম্নমানের হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যেত।
তিনি আরও বলেন, কিছু নামধারী বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক কর্র্তৃপক্ষ রীতিমতো দালাল নিয়োগ দিয়ে রেখেছে। তারা পালা করে পঙ্গুসহ অন্যান্য সরকারি হাসপাতালের সামনে রাত-দিন অবস্থান করে নতুন কোনো রোগী আসামাত্রই ভুলভাল বুঝিয়ে অন্যত্র নিয়ে যায়। বিনিময়ে তারা নির্ধারিত কমিশন পেয়ে থাকে। অন্যদিকে সেই হাসপাতালগুলোয় কোনো চিকিৎসকই থাকেন না। রোগীকে শুধু ব্যথানাশক দিয়ে রাখা হয়। রোগী হাসপাতাল ছাড়তে চাইলে বড় অঙ্কের বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়। টাকা না দেওয়া পর্যন্ত তারা ছাড়পত্র দেয় না।
অভিযানে অংশ নেওয়া র্যাবের কর্মকর্তারা জানান, দুপুর সোয়া ১২টা থেকে পৌনে ১টা পর্যন্ত শেরেবাংলা নগরের পঙ্গু হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ১২ জনকে আটক করা হলেও পরে যাচাই-বাছাই করে একজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে আটক হওয়া দালালচক্রের ১১ সদস্য নিজেদের দোষ স্বীকার করে নেওয়ায় তাদের প্রত্যেককে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়।
তারা আরও জানান, দন্ডপ্রাপ্ত দালালদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালের নাম পাওয়া গেছে। পরে এই সব হাসপাতালের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হবে।