কথিত ইমাম মাহদি দাবি করা সৌদি আরব প্রবাসী বাংলাদেশি মুস্তাক মুহাম্মদ আরমান খানের অন্যতম সহযোগী সিরাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গতকাল বুধবার আদালতের মাধ্যমে দুদিনের রিমান্ডে নিয়েছে তদন্তকারী ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) একটি তদন্ত দল।
সিটিটিসির উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কথিত ইমাম মাহদি দাবিকারী সৌদি আরবে অবস্থানকারী মুস্তাক মুহাম্মদ আরমান খানের সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকসহ অনলাইনের বিভিন্ন মাধ্যমে প্রপাগান্ডা চালিয়ে আসছিলেন। সার্বিকভাবে সব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজ (বুধবার) তাকে দুদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, আরমান খান দীর্ঘদিন ধরে ইসলাম ধর্ম নিয়ে মনগড়া, অপব্যাখ্যামূলক ও ভিত্তিহীন বক্তব্য অডিও-ভিডিও আকারে ইউটিউব চ্যানেল ‘তাকওয়া অনলাইন টিভিসহ অন্যান্য ইউটিউব চ্যানেল ও তার ফেইসবুক আইডিতে প্রচার করে আসছিলেন। আরমান খানের অনুসারী হিসেবে কথিত বায়াত গ্রহণ করেন সিরাজুল ইসলাম। তিনি কথিত ইমাম মাহদির অনুসারী সংগ্রহের জন্য অনলাইন ও অফলাইনে তৎপরতা চালাচ্ছিলেন।
সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, সিরাজুল ইসলাম চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। তিনি দক্ষিণ বাড্ডা এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। রমনা মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের কাছে পাঠানো হয়েছে। তারা আরও জানান, ইমাম মাহদি দাবিকারী মুস্তাক মুহাম্মদ আরমান খানের বক্তব্যে বিভ্রান্ত হয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে বায়াত গ্রহণ করা ১৯ জন কথিত জিহাদে অংশ নিতে সৌদি আরবে যাওয়ার সময় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। এর আগে ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ ছাত্র ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে গিয়ে তার অনুসারী হিসেবে যোগ দেন। গ্রেপ্তার সিরাজুল ইসলামও সৌদি আরবে গিয়ে আরমান খানের অনুসারী হিসেবে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান।