কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ লেখার মামলায় রুহুল আমিন কারাগারে

যুদ্ধাপরাধী আবদুল কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ লিখে প্রতিবেদন প্রকাশের ঘটনায় দায়ের রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দৈনিক সংগ্রামের প্রধান প্রতিবেদক রুহুল আমিন গাজীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার তাকে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। 

অপরদিকে তার আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারী তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সংগ্রামের প্রধান প্রতিবেদক রুহুল আমিন গাজী বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের বিএনপি-জামায়াতপন্থি সাংবাদিকদের অংশের সভাপতির দায়িত্বে আছেন। 

ওই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় বুধবার সন্ধ্যার পর তাকে গ্রেপ্তার করে হাতিরঝিল থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার চিফ রিপোর্টার রুহুল আমিন গাজী তার অপর দুজন সহযোগীর সঙ্গে পরস্পর যোগসাজশে ১২.১২.২০১৯ ইং তারিখ দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার ৩, ৪ ও ৫ নং কলামজুড়ে বোল্ড লেটারে ‘শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার ৬ষ্ঠ শাহাদৎ বার্ষিকী আজ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে যাতে যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লাকে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিংপ্রাপ্ত আখ্যা দিয়ে ’২৩ মার্চ, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জেসিও মফিজুর রহমানের ডাকে এলাকার বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পড়ুয়াদের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণ করেন আব্দুল কাদের মোল্লা’- মর্মে প্রতিবেদন প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাত করার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে ক্ষেপিয়ে তুলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার লক্ষ্যে এ উসকানিমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর ফাঁসি কার্যকর করা হয় ‘মিরপুরের কসাই’ খ্যাত কাদের মোল্লার। সেই দিনের স্মরণে গত বছর ১২ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র হিসেবে পরিচিত দৈনিক সংগ্রামের প্রথম পাতায় ‘শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার ৬ষ্ঠ শাহাদাত বার্ষিকী আজ’ শিরোনামে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

ওই ঘটনার পর সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদকে ওই রাতেই হাতিরঝিল থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আফজাল ওই থানায় মামলা দায়ের করেন।

দণ্ডবিধির রাষ্ট্রদ্রোহের ধারা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা এ মামলায় আবুল আসাদ ও রুহুল আমিন গাজী ছাড়াও পত্রিকাটির বার্তা সম্পাদক সাদাত হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে আসামি করা হয়।

ওই মামলায় এখনও কারাগারে আছেন সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদ। গত মাসে হাই কোর্ট তাকে এক বছরের অন্তর্বর্তী জামিন দিলেও তা আটকে দেয় আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

আদালতে শুনানিতে রুহুল আমিন গাজীর পক্ষে আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক জামিন চেয়ে বলেন, তিনি বয়স্ক, অসুস্থ। হাইকোর্ট থেকে জামিনে ছিলেন। কীভাবে তার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেওয়া হল তা আমাদের বোধগম্য নয়। তাছাড়া রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা এবং গ্রেপ্তারে যে অনুমোদন প্রয়োজন হয় তা রাষ্ট্রপক্ষের ছিল না।

এর বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর আজাদ রহমান বলেন, অনুমোদন নেওয়া ছিল। তার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশও সঠিক নিয়মেই হয়েছে।

খবর: বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম।