নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের লোকজন সশস্ত্র মহড়া দিয়েছে। এ সময় দুই পক্ষই কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় দুই পক্ষের পাঁচজন আহত হয়েছে। এতে করে এলাকায় সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বুধবার রাতে উপজেলার গোলাকান্দাইল ৫নং ক্যানেল এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। আতঙ্কে ওই এলাকায় সন্ধ্যার পর দোকানপাট বন্ধ করে দিতে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমি-জমা, ইট বালু-সিমেন্টসহ মালামাল সাপ্লাই, নতুন ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে মিষ্টির নামে চাঁদা আদায়সহ বিভিন্ন আধিপত্য বিস্তার করছে বিদ্যুৎ, ইকরাম, মাসুম বিল্লাহসহ তাদের লোকজন। অপর দিকে এ আধিপত্য ছিনিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে রাজন, অলিসহ তাদের লোকজন। দীর্ঘ দিন এলাকার বাইরে থেকে ফের এলাকায় প্রবেশ করে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে রাজন বাহিনীর লোকজন। এতে কয়েকদিন ধরেই উভয় গ্রুপের লোকজনের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকার নিরীহ মানুষ। ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস টুকুও পায় না। হত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে উভয় গ্রুপের লোকজনের বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া এ সকল সদস্যরা গোলাকান্দাইলে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বুধবার রাত ৯টার দিকে উভয় গ্রুপের লোকজন গোলাকান্দাইল ৫নং ক্যানেল এলাকায় সশস্ত্র মহড়া দেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে রাজন, সাত্তারসহ উভয় গ্রুপের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছে। একপর্যায়ে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করা হয়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভয়ে ও আতঙ্কে এলাকার ব্যবসায়ীরা দোকান পাট বন্ধ করে দেয়।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানান, উভয় গ্রুপের লোকজনের কাছে এলাকাবাসী জিম্মি হয়ে পড়েছে। বেশ কয়েক মাস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকলেও রাজন বাহিনী ও বিদ্যুৎ বাহিনী বেপরোয়া হয়ে ওঠায় ফের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু হয়ে গেছে। পোশাক কারখানার শ্রমিকরাও রয়েছে চরম আতঙ্কে।
ভূলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনিচুর রহমান মোল্লা জানান, সংবাদ পেয়ে এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।