খেলোয়াড়দেরও নিঃশ্বাসের সুযোগ দরকার

এক প্রেসিডেন্টস কাপে ক্রিকেটারদের সাফল্য-ব্যর্থতার খতিয়ান দেখে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে নারাজ জাতীয় দলের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। বিশেষ সুরক্ষার মধ্যে খেলোয়াড়রা যে মাঠে খেলতে পারছে সেটাই তার কাছে অনেক কিছু। ‘আমার মতে এই খেলাগুলো দিয়ে খেলোয়াড়দের বিচার করা খুব কঠিন।’ গতকাল মিডিয়ার সঙ্গে ‘জুম’ মিটিংয়ে এ কথা বলেন ডমিঙ্গো।

সেই মার্চে করোনাভাইরাসের কারণে সবাই ঘরে ঢুকে যাওয়ার পর খেলা নেই। সত্যিকারের প্র্যাকটিসের ধারাবাহিকতার অভাবও ছিল। তারপরও গোটা পঞ্চাশ খেলোয়াড় করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও মাঠে নেমে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। তামিম, মাহমুদউল্লাহ ও নাজমুল একাদশের ডাবল লিগের ৬ খেলা থেকে কোচ ডমিঙ্গোর মূল্যায়ন, ‘প্রথম কথা হলো আমি খুব সন্তুষ্ট। আসলে এই টুর্নামেন্টটা চমৎকার তীব্রতা নিয়ে খেলা হচ্ছে। দেখবেন সবাই চেষ্টা করছে। বোলাররা ভালো করছে। আরও কিছু রান হলে হয়তো ভালো হতো। কিন্তু এটা বুঝতে হবে যে ছেলেরা প্রায় ৭ মাস খেলে না।’

নামি ব্যাটসম্যানদের অনেকে রান পাননি। চারটি করে ম্যাচ খেলার পরও দেখা যাচ্ছে ১০০’র ওপর রান মোটে সাতজনের। দুশো পার হয়েছেন কেবল মুশফিকুর রহিম। সেঞ্চুরি যে একটি সেটিও তার। ব্যাটিং ব্যর্থতা ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম চোখে লাগার মতো ব্যাপার। ফাস্ট বোলাররা খুব ভালো করেছেন। স্পিনাররাও সাফল্য পেয়েছেন। কিন্তু এসব ব্যাপার ডমিঙ্গোর কাছে আসছে আরও পরে, ‘কোচ হিসেবে আমার প্রধান কাজ হলো এটা নিশ্চিত করা যে খেলোয়াড়রা খেলার সময় পায়, তাদের মধ্যে ইনটেনসিটি (তীব্রতা) আসে। কারণ প্র্যাকটিসের চেয়ে ম্যাচ খেলা ভালো। তীব্রতার কথা ধরলে যেভাবে চলছে তাতে আমি খুব খুশি। সব খেলাই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে। উইকেট অত সহজ ছিল না। এ কারণে ব্যাটসম্যানদের একটু সংগ্রাম করতে হয়েছে হয়তো।’ এর সঙ্গে জুড়ে দিলেন, ‘তবে এর মধ্যে বেশ কিছু খেলোয়াড় ভালো পারফর্ম করেছে। তরুণরা পারফর্ম করছে। মুশফিক, রিয়াদ (মাহমুদউল্লাহ), তামিমদের মতো সিনিয়র খেলোয়াড়রা কিছু রান পেয়েছে। তবে আমার কাছে মূল ব্যাপার হলো ক্রিকেট খেলাটা। ওরা মাঠে গিয়ে খেলছে এটাই বড় কথা।’

বুধবার নাজমুল একাদশের বিপক্ষে ম্যাচে তামিম একাদশের ব্যাটিংয়ের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘(তাদের) দুই ব্যাটসম্যান ছিল যারা ওয়ানডেতে আমাদের প্রথম একাদশের। তারা যে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ তা বলা ঠিক নয়। ৬-৭ মাস আগে ওরাই ৩৪০ (৪৩ ওভারে ৩২২) করেছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। যেখানে লিটন ১৮০ (১৭৬) আর তামিম ১২৮ করে।’ ডমিঙ্গো যোগ করেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হলো ওরা খেলতে পারছে। পারফরম্যান্স (এখন) আমার কাছে উদ্বেগের বিষয় নয়। যারা সাত মাস ধরে খেলার মধ্যে নেই তারা পারফর্ম করতেই থাকবে এবং টুর্নামেন্ট জেতার মোহে থাকবে এমটা আসলে অবাস্তব ব্যাপার। খেলোয়াড়দেরও হয়তো নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ দেওয়াও দরকার।’

টুর্নামেন্টে পেসারদের আগুনঝরা পারফরম্যান্সের প্রসঙ্গ আসতেই উজ্জ্বল ডমিঙ্গোর মুখ। ‘গেল ৭-৮ মাস ধরেই আমরা কয়েকজন তরুণ ভালো ফাস্ট বোলারের খোঁজে আছি। এখন এসে আমরা দেখছি ফাস্ট বোলারের একটা দল গড়ে উঠছে। আমার মতে এটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করতে পারে। তাসকিন, ফিজ, আল-আমিন, হাসান মাহমুদ, খালেদ (আহমেদ), শরিফুলদের দেখুন। আন্তর্জাতিকে ভালো খেলার মতো ৬-৭ জন ফাস্ট বোলার আছে। এটা আমার জন্য অনেক বড় ইতিবাচক ব্যাপার।’ যোগ করেন, ‘তাসকিনের গড়ন দেখুন কিংবা রুবেল যেভাবে খেলছে বা খালেদকে দেখুন যে কি-না বড় চোট থেকে ফিরেছে। ফিটনেস নিয়ে এটা সত্যি কঠোর পরিশ্রম করেছে। আমরা তাদের স্কিল বাড়ানোর চেষ্টা করছি যাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পারফর্ম করতে পারে। তাসকিন তার কাজের ধরনে পরিবর্তন এনেছে। এখন খুব খাটে ও। দারুণ শারীরিক গঠনেও আছে। এক-দুই স্পেলের চেয়ে বেশি বল করতে পারে। তার ফেরার স্পেলও দ্রুতগতির হয়। এসব আমার জন্য আনন্দের।’