যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছর বয়সের কম ব্যক্তিদের মধ্যে ভোট দেওয়ার প্রবণতা খুব কম। তবে এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এমনটা হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এবারের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক তরুণ ভোটারকে ভোট দিতে দেখা যাবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে হওয়া আগাম ভোটে অনেক তরুণ ভোট দিয়েছেন বলেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে।
করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ। তরুণদের বিশাল অংশই গৃহে অবস্থান করছে। এই গৃহে অবস্থান করার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের উপস্থিতি বেড়েছে আগের চেয়ে বেশি। ফলে সামাজিক-রাজনৈতিক অনেক ইস্যুতেই তারা আগের তুলনায় অধিক সচেতন। টিকটক, ভিডিও গেমস, জুম টকস, ফেইসবুক টুইটারসহ সবখানে তরুণদের সরব উপস্থিতি। আর এসব প্ল্যাটফর্মেই নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেক বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে।
টেইলর সুইফট, সেলেনা গোমেজ, বিলি ইলিস ও কার্ডি বি’র মতো সোশ্যাল সেলিব্রেটিরা তরুণদের ভোট দিতে উৎসাহ দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মোট ভোটারের ২০ শতাংশই হলো ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী। এই বয়সী তরুণদের অর্ধেক গত নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন। মিশিগানের ১৯ বছর বয়সী কেইটলিন আপকং এএফপিকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটা সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী নির্বাচন। আমি এমন অনেককে চিনি যারা নিজেদের ভোটকে গুরুত্বহীন মনে করেন।’
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যমতে, ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী আমেরিকানদের ৬৩ শতাংশই আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট দেবেন, যা চার বছর আগেও ছিল ৪৭ শতাংশ। নতুন এই ভোটারদের ভোট এবারের নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে। এমনকি হার-জিতও নির্ধারিত হতে পারে তরুণদের ভোটে। এই তরুণদের ৬০ শতাংশই এবার ৭৭ বছর বয়সী জো বাইডেনকে ভোট দেবেন বলে হার্ভার্ডের জরিপে বলা হচ্ছে।
আমেরিকান তরুণরা বন্দুক নিয়ন্ত্রণ ও জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে বেশ সোচ্চার। আর এই দুই ইস্যুতে রিপাবলিকানদের তুলনায় অনেক বেশি উদার ডেমোক্র্যাটরা। জো বাইডেন তো তার নির্বাচনী প্রচারে প্রেসিডেন্ট হলে এ দুই ইস্যুতে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
২০১৬ সালে পেনসিলভানিয়াতে ৪৪ হাজার ভোট পেয়ে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। নেক্সটজেন আমেরিকা নামক একটি গ্রুপের দেওয়া তথ্যানুসারে, পেনসিলভানিয়াতে এবার ৫০ হাজার মানুষ ভোট দেবেন। গত নির্বাচনের পর পেনসিলভানিয়াতে নতুন করে ২২ হাজার মানুষ ভোটার হয়েছেন। নেটিজেনের পরিচালক লারিসা সুইজার বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে আমাদের ক্ষমতা দেখানোর আছে। তরুণ ভোটাররা ইতিমধ্যেই ভোট দিতে শুরু করেছেন, যা আগের কোনো নির্বাচনে দেখা যায়নি।’
চলতি সপ্তাহে ৩১ বছর বয়সী সিনেটর আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিয়া কর্টেস টুইটে একটি অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। এই প্ল্যাটফর্ম থেকে তিনি তরুণদের আহ্বান জানিয়েছেন তার সঙ্গে ভিডিও গেমস খেলতে। এমনি অনেক প্রভাবশালী তরুণ অন্য তরুণ-তরুণীদের আকৃষ্ট করছেন এবারের নির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা অ্যাক্টিভিজমের সঙ্গে জড়িত, তাদের হাতে অনেক ভোট রয়েছে। নির্বাচনী ক্যাম্পেইনাররা এই অ্যাক্টিভিস্টদের কাজে লাগাতে চাইছেন। কিন্তু এই অ্যাক্টিভিস্টদের অধিকাংশই বর্ণবাদবিরোধী ও জলবায়ু আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় রিপাবলিকানদের পক্ষে তাদের সঙ্গে কাজ করা সহজ হচ্ছে না।