দুই প্রার্থীর প্রচার শুরু

আগামী ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা-১৮ উপনির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিব হাসান ও বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। হাবিব হাসান গতকাল শুক্রবার উত্তরখান মাজার মসজিদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণসংযোগ শুরু করেন। এর আগে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়েছেন।

হাবিব হাসান বলেন, ‘জামায়াত-বিএনপি এই আসন থেকে পাস করতে পারেনি। আর পারবেও না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য নৌকাকে ভোট দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, এই উপনির্বাচনে নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে। নৌকা বিজয়ী হলে প্রয়াত সাবেক এমপি সাহারা খাতুনের সম্মান আমরা ধরে রাখতে পারব। এই নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে সাহারা আপার সম্মান ধরে রাখা।’

আওয়ামী লীগ মনোনীত এই প্রার্থী আরও বলেন, ‘সকলে ঐক্যবদ্ধ থেকে নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে। আমি নির্বাচিত হতে পারলে এই এলাকাকে আধুনিকভাবে গড়ে তুলব। এই এলাকার সবার জন্য ২৪ ঘণ্টা আমার দরজা খোলা থাকবে।’

এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুল রহমান বলেন, সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে ১২ তারিখে নৌকাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে। সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে নেতাকর্মীদের প্রচারণায় অংশ নিতে হবে।’ ্

এদিকে উপনির্বাচন সামনে রেখে আনুষ্ঠানিক প্রচারে নেমেছেন এই আসনের বিএনপির প্রার্থী ও যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। গতকাল শুক্রবার উত্তরার কেন্দ্রীয় মসজিদে জুমার নামাজের পর দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচার শুরু করেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রচারের শুরুতে নিজ দলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের প্রতিবাদের মুখে পড়েন বিএনপির এই প্রার্থী। গত ১২ সেপ্টেম্বর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে জাহাঙ্গীরের সমর্থক নেতাকর্মীদের হামলায় আহত ও পরবর্তীতে বহিষ্কৃত নেতাকর্মীরা একইস্থান থেকে কালো পতাকা মিছিল করেন। তাদের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘১২ সেপ্টেম্বর গুলশানে হামলার ঘটনার বিচার চাই। জাহাঙ্গীরের বহিষ্কার চাই।’ মিছিলটি সংগ্রাম মোড়ে পৌঁছার আগে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এতে উভয় পক্ষের ১৫ নেতাকর্মী আহত হন। বিক্ষুব্ধদের নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত নেতা নাজিম উদ্দিন দেওয়ান, আমজাদ হোসেন ও মতিউর রহমান।

বিক্ষুব্ধ নেতাদের অভিযোগ, ‘গত ১২ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরের লোকজন তাদের ওপর হামলা করেছে। আবার হামলায় আহতদের বহিষ্কার করা হয়েছে। তাই আমরা জাহাঙ্গীরের বহিষ্কারের দাবিতে এমন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছি।’ জানতে চাইলে মতিউর রহমান মতি বলেন, ‘সন্ত্রাসী ও ঘরজামাই জাহাঙ্গীরের বহিষ্কার দাবি করে আমরা প্রার্থীর মিছিলের শেষভাগে কালো পতাকা প্রদর্শন করে এগিয়ে যাই। এরই একপর্যায়ে দুই পক্ষের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।’

কালো পতাকা মিছিল ও হামলার ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি কাউকে দেখিনি কালো পতাকা মিছিল করতে।’ তিনি বলেন, ‘আমি বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে নির্বাচন ভবনে গিয়ে দলীয় প্রতীক গ্রহণ করেছি। এরপর জুমার নামাজের পর প্রথম দিনের গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচার শুরু করি।’  

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন শুরু হলো জাহাঙ্গীর : প্রচারে নেমে এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘ঢাকা-১৮ উপনির্বাচন থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন শুরু হলো। আমাদের এই নির্বাচন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নির্বাচন। আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির নির্বাচন। বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে ছিল, আছে এবং ১২ নভেম্বর নির্বাচনের মাধ্যমে ধানের শীষের বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরবে। ঢাকা-১৮ আসন থেকে খালেদা জিয়ার বিজয় শুরু হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ জনগণ এ সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। দেশ দুর্নীতি ও সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে সুযোগ পেলে রায় দিয়ে খালেদা জিয়াকে বিজয়ী করবে।’

জাহাঙ্গীরের গণসংযোগে অংশ নেন ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচন পরিচালনায় বিএনপি গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য আমান উল্লাহ আমান। আরও ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব ও আবদুস সালাম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু প্রমুখ।