করোনাভাইরাসের কারণে এবার বাগেরহাটের শিকদারবাড়িতে দেশের সবচেয়ে বেশি প্রতিমার দুর্গাপূজার আয়োজন হয়নি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হলেও পূজার সময় লোক সমাগম থেকে যাতে সংক্রমণ না বাড়ে সে জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। তবে সেখানে কেবল পারিবারিকভাবে (ছোট পরিসরে) দুর্গাপূজার আয়োজন হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর ধরে ব্যক্তি উদ্যোগে বাগেরহাটের হাকিমপুরের শিকদারবাড়িতে দেশের সবচেয়ে বড় দুর্গাপূজা হয়ে আসছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই পূজা দেখতে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। এ বছর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় সেখানে দুর্গাপূজা আয়োজন করা হয়নি।
শিকদারবাড়ির আয়োজক লিটন শিকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২০১১ সালে ২৫১টি প্রতিমা নিয়ে দুর্গাপূজা শুরু হয়। গত বছরও শিকদারবাড়িতে ৮০১টি প্রতিমা দিয়ে দুর্গাপূজা হয়েছে। পূজার ছয় মাস আগে থেকেই মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়।
যখন প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হবে, তখন থেকেই দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ি পড়ে। যার কারণে এ বছর পূজা না করার সিদ্ধান্ত নিই। পূজা দেখতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে এই পূজামন্ডপে। সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে এই উৎসব করা সম্ভব হবে না। তাই আমরা প্রতিমা তৈরি না করেই আচার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পারিবারিকভাবে ঘটপূজা করব।’ এ বছর ভুল করে কোনো দর্শনার্থী যেন শিকদারবাড়ির পূজা দেখতে না আসেন, সেই আহ্বানও জানান তিনি।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অবনীষ চক্রবর্তী সোনা বলেন, ‘জেলায় ৬১৭টি মন্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। তবে করোনার সংক্রমণ রোধে শিকদারবাড়িতে পূজার আয়োজন হয়নি। সেখানে সীমিত পরিসরে হচ্ছে। করোনা থেকে যেন দেশ ও জাতি মুক্তি পায়, এ বছর মা দুর্গার কাছে সেই প্রার্থনাই করছি।’