গাজীপুরের কালীগঞ্জে সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাতেই ওই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন নবজাতকের পরিবার।
মারা যাওয়া ওই নবজাতকের বাবা এনামুল কবির শনিবার জানান, তার স্ত্রী আফসানা আক্তারের সন্তান প্রসবের নির্ধারিত তারিখ ছিল ৫ নভেম্বর। শুক্রবার সকালে হঠাৎ করে অসুস্থতা অনুভব করলে কালীগঞ্জের সেন্ট্রাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রোগীর অবস্থা খারাপ থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে রোগীকে বসিয়ে রাখা হয়। ডাক্তার আসে আসে বলে বিকেল ৪টার দিকে তার স্ত্রীকে সিজার করা হয়। সিজারের পর নবজাতকের হার্ডবিট ছিল। কিন্তু জন্মের কয়েক মিনিটের মধ্যে তার শিশু সন্তান মারা যায়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবহেলা না করে সঠিক সময়ে তার স্ত্রীর অপারেশন করলে শিশুকে বাঁচানো সম্ভব ছিল বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়রা জানান, এর আগে গত মাসে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। এ ছাড়া গত বছর এই হাসপাতালে চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় একজন শিশু ও একজন মায়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এত ঘটনার পরও কেন হাসপাতালটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
কালীগঞ্জ সেন্ট্রাল হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন মিরাজ বলেন, প্রসূতি আফসানা আক্তার মৃত সন্তান প্রসব করেছে। কে বলেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় নবজাতক মারা গেছে? অপারেশন তো ডাক্তার করে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নয়।
গাইনী চিকিৎসক সানজিদা পারভিন বলেন, রোগী ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আসলেও তখন তার অতিরিক্ত প্রেশার ও ডায়াবেটিস ছিল। রোগীকে যখন হাসপাতালে আনা হয়েছে তখন বাচ্চা পায়খানা করে দিয়েছে, বাচ্চার অবস্থাও খারাপ ছিল। বাচ্চার অভিভাবকদের জানানো হয়েছে। কী করবো? বাচ্চাতো বের করতে হবে। শেষে অপারেশনের পর বাচ্চা আর কান্না করেনি।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মোহাম্মদ ছাদেকুর রহমান আকন্দ বলেন, এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।