দিনে দুপুরে রাস্তায় নারীর মরদেহ ফেলে দেওয়ার সময় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে বানিয়াচং থানার পুলিশ।
শনিবার বিকেলে এ ঘটনাটি ঘটেছে হবিগঞ্জ - বানিয়াচং সড়কের শুটকি ব্রীজের কাছে। আটক যুবকের নাম অনিক পান্ডে (৩০)। অনিক বানিয়াচং দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের মাদারিটুলা মহল্লার মৃত মানিক পান্ডের পুত্র। নিহত জোনাকি বানিয়াচং উত্তর-পূর্ব ইউনিয়নের বিদ্যাভুষনপাড়ার অপু মিয়ার স্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বানিয়াচং পুলিশ জানায়, বানিয়াচং -হবিগঞ্জ সড়কের শুটকি ব্রিজের কাছে একটি সাদা অ্যাম্বুলেন্স থেকে মৃত দেহটি রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার সময় পথচারীরা দেখতে পান। এ সময় তারা চিৎকার দিলে হাওরে মাছ ধরতে আসা জেলেরা অনিক পান্ডেকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। খবর পেয়ে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমরান হোসেন নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মরদেহ ও পাশে থাকা তার দেড় বছরের কন্যা শিশুকে উদ্ধার করেন। আটক করা হয় অনিক পান্ডেকে ।
নিহত জোনাকির মা হেনা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, জোনাকির স্বামী অপু কর্মসূত্রে চট্রগ্রামে থাকেন। স্বামীর অনুপস্থিতিতে অনিক পান্ডের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে জোনাকি। প্রায় দেড় মাস আগে অনিক পান্ডের হাত ধরে দেড় বছরের মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যায় সে। পালিয়ে যাওয়ার পনের দিন পর অনিক পান্ডে জোনাকির মাকে মোবাইলে জানায়, জোনাকি তার স্বামী অপুকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ে করেছে।
এদিকে শনিবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে অনিক পান্ডে হেনাকে মোবাইলে জানায় কিছুক্ষণ আগে বসতঘরের সিলিং ফ্যানের আঘাতে জোনাকি মেয়ে মারা গেছে। অ্যাম্বুলেন্সে করে তার লাশ বাড়িতে নিয়ে আসছে।
হেনা আরো জানান, পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারি একটি লাশ বানিয়াচঙ্গ-হবিগঞ্জ রাস্তার শুটকি ব্রিজের সন্নিকটে পড়ে রয়েছে। থানায় এসে দেখতে পাই এটা আমার মেয়ে জোনাকির লাশ। আমি আমার মেয়ের হত্যাকান্ডের বিচার চাই।
বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমরান হোসেন জানান, সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়নাতদন্তর জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অনিক পান্ডেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় রাখা হয়েছে। লাশ বহনকারি অ্যাম্বুলেন্সটি মাধবপুর থানা পুলিশের সহায়তায় নোয়াপাড়া নামক স্থান থেকে আটক করা হয়। এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
তিনি জানান, জোনাকিকে নিয়ে সে নেত্রকোনা বসবাস করতো। জোনাকির গলায় আঘাতে চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পর বিস্তারিত জানা যাবে। বানিয়াচং উত্তর-পূর্ব ইউনিয়নের ইউপির চেয়ারম্যান রেখাছ মিয়ার উপস্থিতিতে জোনাকির মায়ের কাছে জোনাকির শিশুটিকে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।