কর্ণফুলীর ঘাটগুলো ফিরেছে পুরনো চেহারায়

শ্রমিক ধর্মঘট ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে টানা চার দিনের অচলাবস্থার পর শনিবার বিকেল থেকে আবারও শুরু হয়েছে বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে পণ্য লাইটারিং।  একই সঙ্গে সরব হয়ে উঠেছে কর্ণফুলী তীরের ঘাটগুলো। গতকাল সকাল থেকে সবগুলো ঘাটেই পুরোদম চলছে পণ্য খালাসের কাজ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে জানান, মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে বহির্নোঙরে লাইটারেজ জাহাজে পণ্য খালাস বন্ধ ছিল। একই সঙ্গে ঘাটগুলোতেও কোনো ধরনের কাজ করেননি শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও নিম্নচাপের কারণে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৩ নম্বর সতর্ক সংকেতের পাশাপাশি সাগর উত্তাল থাকায় শুক্রবারও বহির্নোঙরে কোনো কাজ হয়নি। শনিবার দুপুরে সতর্ক সংকেত উঠে যাওয়ার পর নির্ধারিত লাইটারেজ জাহাজগুলো বহির্নোঙরে গিয়েছে এবং বিকেল থেকে সেখানে লাইটারিং শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে আসা বিশালাকায় জাহাজগুলো নোঙর করে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে। ছোট ছোট লাইটারেজ জাহাজগুলো ছুটে যায় সেখানে। বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করে ছুটে যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্দিষ্ট গন্তব্যে। কিন্তু ধর্মঘট ও আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত একটানা চারদিন বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ জাহাজগুলো থেকে কোনো পণ্যই খালাস হয়নি। এর ফলে অতিরিক্ত অপেক্ষার জন্য জাহাজগুলোকে বিপুল অংকের ডেমারেজ গুনতে হবে।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, পণ্য খালাস বন্ধ থাকলেও এ চারদিনে বহির্নোঙরে যোগ হয়েছে অন্তত বিশটি নতুন জাহাজ। গতকাল সকালে দেওয়া বন্দরের পরিসংখ্যান মতে, চট্টগ্রাম বন্দর জেটি ও বহির্নোঙর মিলে মোট জাহাজের সংখ্যা ছিল ৮৯টি। এর মধ্যে ৬৯টি জাহাজ বহির্নোঙরে অবস্থান করছিল। জাহাজগুলোর মধ্যে ২২টি সাধারণ পণ্যবাহী, ৭টি খাদ্যশস্যবাহী, ২টি সারবাহী, ২৫টি সিমেন্ট ক্লিংকারবাহী, ১টি চিনিবাহী, ১০টি অয়েল ট্যাংকার ও ২টি কন্টেইনার জাহাজ রয়েছে।

এদিকে কর্ণফুলী নদীতীরের ঘাটগুলো অন্য সময় প্রতিদিন শ্রমিকদের পদচারণায় মুখর থাকলেও নৌযান শ্রমিক ধর্মঘট আর বৈরী আবহাওয়ার কারণে চারদিন এ দৃশ্য ছিল অনুপস্থিত। ছিল না মাথায় পণ্যের বস্তা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি কিংবা কুলিদের হাঁকডাক। গতকাল থেকে ঘাটগুলো আবারও পুরনো চেহারা ফিরে পেয়েছে।  বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সচিব নবী আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও শুক্রবার প্রতিকূল আবহাওয়ায় বহির্নোঙরে কোনো লাইটারেজ জাহাজ যেতে পারেনি। বার্থিং মিটিংয়ে বরাদ্দ দেওয়া সবগুলো লাইটারেজ জাহাজ শনিবার দুপুরের পর বহির্নোঙরে গেছে। সেখানে বিকেল থেকে যথারীতি পণ্য খালাসের কাজ চলছে।

প্রসঙ্গত, ১১ দফা দাবিতে গত সোমবার মধ্যরাত থেকে ধর্মঘট শুরু করেন নৌযান শ্রমিকরা। এর ফলে সারা দেশে নৌপথে পণ্য পরিবহন অচল হয়ে পড়ে। পাশাপাশি বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে লাইটারেজ জাহাজে পণ্য খালাসও বন্ধ হয়ে যায়।