শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় প্রভাবশালীরা জমি দখল করছে এমন সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে দুই সংবাদিককে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখা হয়েছে বলে বিকেনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এরশাদ মাদবরের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বিকেনগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিকেনগর মুন্সীকান্দি গ্রামের সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে জাজিরা থানার এসআই মফিজুর রহমান, সামছুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল সাংবাদিকদের উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় শরীয়তপুর প্রেস ক্লাব, শরীয়তপুর ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, শরীয়তপুর অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ জেলার সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে শািস্ত দাবি করেছেন তারা।
অবরুদ্ধ দুই সাংবাদিক জানান, বিকেনগর মুন্সীকান্দি গ্রামের ছলেমান মাদবর (৭৫) ও তার চাচাতো ভাই সোবাহান মাদবরের (৬০) সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সাড়ে ১০ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। গত ১৮ অক্টোবর সেই জমি দখল করে ক্লাব ঘর করবে বলে জোরপূর্বক গাছ কেটে মাটি ভরাট করে সোবাহান মাদবর ও তার লোকেরা। পরে ছলেমান মাদবর প্রতিবাদ করলে দুইপক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এ ঘটনায় ছলেমান বাদী হয়ে জাজিরা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। পরে স্থানীয় সালিশরা দুইপক্ষকে ডেকে ২৩ অক্টোবর মীমাংসার জন্য বসার কথা বললেও পুনরায় বসা হয়নি।
এ বিরোধের জের ধরে গত রবিবার রাতে সোবাহান মাদবর তার ছেলে নাছির মাদবর, বিকেনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এরশাদ মাদবর ও তাদের লোকেরা ছলেমান মাদবর ও তার লোকজনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় বলে জানায় ছলেমান মাদবর।
এ বিষয় নিয়ে সোমবার সকালে হামলা ও জমি দখল করছে এমন সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে দৈনিক বর্তমান পত্রিকার শরীয়তপুর প্রতিনিধি খোরশেদ আলম বাবুল ও দীপ্ত টেলিভিশনের শরীয়তপুর প্রতিনিধি রাজিব হোসেন রাজনকে বিকেনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এরশাদ মাদবরের নেতৃত্বে ধাওয়া দিয়ে স্থানীয় একটি দোকানঘরে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে।
জানা যায়, অবরুদ্ধের সময় সোবাহান মাদবরের লোকেরা ছলেমান মাদবরের লোকদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে দুইপক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে ইউসুফ আলী মাদবর (৬৫) ও আবু বকর মাদবরকে (৩৫) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সোবাহান মাদবরের নাতি সালমুন হাওলাদারকে (১৮) আটক করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশের কাছ থেকে সালমুনকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
সাংবাদিক খোরশেদ আলম বাবুল ও রাজিব হোসেন রাজন বলেন, জাজিরা উপজেলার বিকেনগর মুন্সীকান্দি এলাকায় প্রভাবশালীরা জমি দখল করে ক্লাবঘর করবে এমন সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বিকেনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এরশাদ মাদবরের নেতৃত্বে সোবাহান মাদবর, নাছির মাদবর, জলিল, উজ্জ্বল, চান মিয়া, সালমুন হাওলাদার, লাভলি, নাজমা, রিমাসহ ২০-২৫ জন দেশি অস্ত্র ও লাঠি নিয়ে আমাদের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে আমাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। শুধু তাই নয়, আমাদের ধাওয়া করে, পরে আমরা স্থানীয় ব্যবসায়ী ছালাম বেপারির টেইলার্স দোকানঘরে আশ্রয় নেই। পরে তারা আমাদের সেখানে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে আমাদের উদ্ধার করে। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করছি।
ছলেমান মাদবর বলেন, আমরা পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে ৬০ বছর ধরে ওই জমির ভোগ দখলে আছি। এই সম্পত্তি বাজারের নামে পেরিফেরি হচ্ছিল। আমরা সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে রায় পেয়েছি। সোবাহান মাদবর ও তার লোকজন ক্লাবঘর নির্মাণ করার জন্য জোরপূর্বক গাছ কেটে এবং মাটি ফেলে সম্পত্তি দখল করার চেষ্টা করে। বাধা দিলে সোবাহান মাদবরের লোকজন আমাদের ওপর ও আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর দফায় দফায় হামলা-ভাঙচুর চালায়। আজ সোমবার (গতকাল) সকালে সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করতে আসলে তাদের ওপর সোবাহান মাদবরের লোকজন হামলা করে। আমরা এর সঠিক বিচার দাবি করছি।
সোবাহান মাদবরের ছেলে বিকেনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এরশাদ মাদবর বলেন, আমাদের জমিতে ঘর তোলার জন্য মাটি ফেলেছি। কিন্তু ছলেমান সেই জমি নিজেদের দাবি করছে। তারা আমাদের ওপর হামলা করে বেশ কয়েকজনকে আহত করেছে। সাংবাদিকদের আমরা অবরুদ্ধ করেনি।
জাজিরা থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম সরকার পিপিএম বলেন, সংঘর্ষ ও সাংবাদিকদের অবরুদ্ধের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে এবং তদন্তসাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।