ঢাকা ও সিরাজগঞ্জের দুই সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে স্থানীয় প্রশাসনের আশকারা পেয়ে ক্ষমতাসীনরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল সোমবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।
প্রিন্স বলেন, ‘ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বেপরোয়াভাবে বীরদর্পে হামলা চালাচ্ছে বিএনপির প্রার্থী, সমর্থক ও ভোটারদের ওপর। এ ছাড়া পুরনো মামলায় কিংবা নতুন গায়েবি মামলার হুমকি দিয়ে দলের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশি নির্যাতন-গ্রেপ্তার করার হুমকি দিচ্ছে তারা। জাতীয় সংসদের এই উপনির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাগের ডগায় এসব ঘটনা ঘটলেও তারা সেখানে কোনো ব্যবস্থা তো নেয়ইনি বরঞ্চ তাদের আশকারায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের কাছে একটি বিষয় সন্দেহাতীতভাবে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তাদের পরাজয় সুনিশ্চিত। তাই তারা দলীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে বল প্রয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় সব নির্বাচন কব্জা করতে চায়। এই দুটি উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই প্রতীয়মান হচ্ছে যে, ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের মতোই এই দুটি আসনে প্রহসনের নির্বাচন করতে তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।’
স্থানীয় জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রিন্স বলেন, ‘নাগরিকদের ভোটের অধিকার রক্ষা করতে ভোট ডাকাতির ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে বলতে চাই, নির্বাচনের নামে অপকর্ম করলে তাদেরকেও জবাবদিহি করতে হবে।’
গত কয়েক দিনে ঢাকা-১৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে দক্ষিণখানে কর্মিসভায় হামলা, কামারপাড়ার রানাভোলায় মহানগর নেতা মোস্তফা জামানের বাড়িতে আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হামলাসহ সিরাজগঞ্জ-১ আসনের নানা ঘটনা তুলে ধরেন সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ‘শহীদ জিয়াউর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়’ স্কুলের নাম পরিবর্তনের ঘটনায় এবং গত রবিবার রাতে ধানমন্ডির কাছে ঢাকা-৭ আসনের সাংসদ হাজী সেলিমের ব্যবহার করা গাড়ি থেকে তার ছেলেসহ কয়েকজন নেমে নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনার তীব্র নিন্দাও জানান প্রিন্স।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেন, অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁঁইয়া, হারুনুর রশীদ, জয়ন্ত কুমার কু-ু, আ ক ম মোজাম্মেল, হাসান জাফির তুহিন প্রমুখ।