কাঁঠালবাগানে ছাদ থেকে পড়ে তরুণের মৃত্যু

রাজধানীর কাঁঠালবাগানে বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে মো. আশিক (২২) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের অভিযোগ হত্যা করা হয়েছে তাকে।

মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে ওই এলাকার হারুন অর রশিদের বাড়ির পাশ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় আশিককে উদ্ধার করা হয়। পরে সকাল ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থলে এ বিষয়ে নিউ মার্কেট জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার আবুল হাসান বলেন, “৮, কাঁঠালবাগান বাজারের ৫ তলা বাড়ির ছাদ থেকে আশিক নিচে পড়ে যায়। ৭ নম্বর ও ৮ নম্বর বাড়ির মাঝখানের ফাঁকা জায়গা থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়।”

এ ঘটনায় ওই বাড়ির মালিক ও মালিকের ছেলে রেজোয়ানকে আটক করেছে।

স্বজনরা জানায়, কাঁঠালবাগান লাকি হোটেল মোড়ে ভাড়া বাসায় থাকেন তারা। গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বাড়াইলচড় গ্রামে। পেশায় তেমন কিছুই করতেন না আশিক। ৩ ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিলো সে। তার বাবা কামাল মিয়া চটপটি বিক্রি করেন।

আশিকের মা কল্পনা বেগম বলেন, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে একটা ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয় আশিক। এরপর থেকে আর পাওয়া যাচ্ছিল না তাকে। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে খবর পাই কাঁঠালবাগান হারুন অর রশিদের বাড়ি ও নির্মাণাধীন ভবনের মাঝখানে পড়ে আছে আশিক। পরে সেখানে গিয়ে দেখি। পুলিশসহ লোকজন দাঁড়িয়ে আছে। এরপরই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। হাসপাতালে নেওয়ার পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আশিকের বড় ভাই সাগর আহমেদ জানান, হারুন অর রশিদের দুই ছেলের সঙ্গেই ঘুরত সে। তারা মাদকাসক্ত। পুলিশ তাদের কয়েকবার ধরে নিয়ে যায়। ওদের সঙ্গে আশিক মাদকসেবন করতো। প্রায় সময়ই ফোন দিয়ে ডেকে নিতে তাকে। গতকাল ওরাই তাকে ডেকে নিয়ে গেছে। তারাই আশিককে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ বড় ভাই সাগরের।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহটি মর্গে রাখা হয়েছে। মৃত আশিকের থুতনিতে ও দুই পায় রক্তাক্ত জখম রয়েছে।

এ দিকে এলাকাবাসী জানিয়েছে, নিহত যুবক মাদকাসক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে এলাকায় ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এর আগে কয়েক মাস আগে পুলিশ তাকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছিল। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে ছিঁচকে চুরির অভিযোগ রয়েছে।