এল ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হারের চার দিনের মাথায় আজই জুভেন্তাসের সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগের মহারণ বার্সেলোনার। ঠিক তার দুদিন আগে সংবাদ সম্মেলন করে অতীতের বিষয় টেনে এনেছেন বার্সেলোনার বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ। লিওনেল মেসির বার্সায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর এতদিন মুখ খোলেননি তিনি। এবার জানালেন মেসিকে জোর করে রেখে দেওয়ার স্পষ্ট কারণ।
‘তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে আমাদের প্রজেক্টটি খুব দারুণ হবে সঙ্গে যদি তার (মেসি) মতো অভিজ্ঞ কেউ থাকে। আমার ধারণা তাকে নিয়ে এ বছর আমরা শিরোপা জিততে পারব। আমি সবার অবস্থান বুঝতে পারছি, এটা বোঝাটা জরুরি। লিওর ক্ষেত্রে, সে যে ক্ষুব্ধ হয়েছে তা ভালো লক্ষণ। কারণ হার মেনে নেওয়া ঠিক না এবং আমাদের সবার রাগ হয়েছে। কিন্তু সে থাকবে কি থাকবে না সেটা জানানোর একটা নির্দিষ্ট দিন ছিল। সে তখন জানায়নি, আর ব্যাপারটি ওখানেই শেষ। আমরা সবাই চাই সে বার্সেলোনা থেকেই অবসরে যাক’ সোমবার ক্লাব ডিরেক্টরদের বৈঠক শেষ একথা বলেন তিনি।
মূলত তরুণদের নিয়ে নতুন প্রজেক্টে মেসিকে রাখতেই এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান বার্সা সভাপতি, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল মেসিকে নতুন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা। তাই আমি কোনো আলোচনায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত থেকেছি। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে আমি নাকি আর্থিক সামঞ্জস্য আনার জন্য তার বিদায় নিশ্চিত করতে চেয়েছি। কিন্তু তা ঠিক না। আমি ক্লাবের প্রয়োজনটাকেই গুরুত্ব দিয়েছি এবং প্রতিপক্ষকে (ম্যানচেস্টার সিটি) শক্তিশালী করতে চাইনি। আমরা জানতাম এ সিদ্ধান্তের জন্য আমাদের সমালোচনা হবে। তবু সেটা করেছি।’
মেসিকে আটকে রাখতে পারলেও সে ঘটনার পর নানা কারণে তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বার্তোমেউর পদত্যাগ চেয়ে স্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু হয়। তিন ধাপ পেরিয়ে এখন গণভোট আয়োজনের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। প্রাথমিকভাবে আগামী ১ ও ২ নভেম্বর বার্তোমেউর বিপক্ষে অনাস্থা ভোট আয়োজন করার কথা রয়েছে। তবে করোনাভাইরাসের এ সময়ে নির্বাচন বাতিল করার অনুরোধ করেছে বার্সেলোনা কর্র্তৃপক্ষ। শেষ পর্যন্ত যদি বাতিল নাও করা হয় তাহলে কমপক্ষে ১৫ দিন পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে তারা। ক্লাবের স্থায়ী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার স্বাক্ষর কর্মসূচি পরিচালনাকারীদের পক্ষে ভোট দিলে বার্তোমেউ ও তার বোর্ড সদস্যদের দায়িত্ব ছাড়তে হবে। জানা গিয়েছিল এর আগেই পদত্যাগ করতে পারেন তিনি। কিন্তু এমন ইচ্ছা নেই বলেই জানিয়ে দিয়েছেন বার্তোমেউ, ‘মেসির ঘটনার কারণে আমার কখনো মনে হয়নি পদত্যাগ করব। বার্সেলোনার জন্য, ক্লাবের জন্য, দলের জন্য, মেসিকে রাখা এবং তার এখানেই অবসর নেওয়া নিশ্চিত করাই ছিল সবার জন্য সেরা সিদ্ধান্ত। নতুন প্রকল্পটা বেশ দারুণ হবে, তরুণ খেলোয়াড় ও মেসির মতো অভিজ্ঞদের মিশেলে। আর সে যেহেতু আছে, আমরা এ মৌসুমে একটা হলেও শিরোপা জিতব।’