পুলিশ চেকপোস্টের কাছে গুলি করে সাড়ে ৫ লাখ টাকা ছিনতাই

সাভারে প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশ চেকপোস্টের কাছে ইতালি প্রবাসী এক ব্যক্তির গাড়ি আটকে মারধর ও গুলি করে পাঁচ লাখ ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় স্থানীয়রা আহত অবস্থায় ওই প্রবাসীকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাভারের আমিনবাজার-ভাকুর্তা সড়কের পুলিশ চেকপোস্টের কাছে তুরাগ ব্রিজের ঢালে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ ওই ইতালি প্রবাসীর নাম মোহাম্মদ আমান উল্লাহ (৪০)। তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জ থানার সিরাজনগর বটতলী এলাকার সিদ্দিক আলীর ছেলে।

আহতের স্ত্রী সুমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী এক মাস আগে ইতালি থেকে ছুটিতে বাড়িতে আসেন। সম্প্রতি আমরা নিজেদের বাড়ি নির্মাণের কাছে হাত দিয়েছি। এ কারণে রড কেনার জন্য বুধবার সকালে সাভারের আমিন বাজার ইসলামী ব্যাংক থেকে পাঁচ লাখ ৭০ হাজার টাকা উত্তোলন করি। পরে টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রী একটি প্রাইভেট গাড়িতে করে বাড়িতে ফিরছিলাম। আমরা যখন তুরাগ-ভাকুর্তা সড়কের লোহার ব্রিজ পার হয়ে পুলিশ চেকপোস্টের প্রায় কাছে চলে আসি তখনই ফিল্মি স্টাইলে পাঁচটি মোটরসাইকেলে করে দশ জন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত আমাদের গাড়ি ব্যড়িকেড দিয়ে আমার স্বামীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা আমার কাছে থাকা টাকার ব্যগটি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে আমার স্বামী বাধা দেন। তখন ছিনতাইকারীরা তার বাম পায়ে একটি গুলি করে এবং আরও চারটি ফাঁকা গুলি করে আমার কাছে থাকা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে আমিনবাজারের দিকে চলে যায়।

তিনি আরো বলেন, যে ছিনতাইকারীরা আমাদের গাড়ির গতিরোধ এবং গুলি করে টাকা ছিনিয়ে নেয় তাদের আমরা ব্যাংকের ভেতরে বসে থাকতে দেখেছি। এদের মধ্যে কয়েকজন আমাদের আশপাশ দিয়ে ঘোরাফেরা করে আমরা কত টাকা উঠিয়েছি তা পর্যবেক্ষণ করে এবং সেখান থেকেই আমাদের পিছু নেয়। ছিনতাইকারীরা আমার স্বামীর মাথা, শরীরসহ বিভিন্ন জায়গায় পাঁচটি গুলি করলেও একটি গুলি তার বাম পায়ে লাগে।

এ ছাড়া গুলি করার কোনো শব্দ হয়নি বলেও জানান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী প্রাইভেটকার চালক জাকির হোসেন বলেন, তাদের গাড়িটি যখন ছিনতাইকারীরা ব্যারিকেড দেয় তখন আমি বিপরীত দিক থেকে গাড়ি চালিয়ে আসছিলাম। মোটরসাইকেল থেকে কয়েকজন লোক নেমে যখন যাত্রীদের মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেয় আমি মনে করেছিলাম যে হয়তো মোটরসাইকেলে ধাক্কা লাগায় ঝগড়া করছে। পরে টাকা নিয়ে চলে যাওয়ার পর জানতে পারি তারা ছিনতাইকারী।

জানতে চাইলে সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে টাকা ছিনতাইয়ের বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আমাদের পাশাপাশি র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরাও বিষয়টি তদন্ত করছে। ইতিমধ্যে ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করে টাকা উদ্ধারে অভিযান চালানো হবে।