আর কয়েকদিন পরই নির্ধারণ হতে যাচ্ছে, কে হচ্ছেন পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দাদের মধ্যে পরিচালিত একাধিক জরিপে এগিয়ে আছেন বাইডেন। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার মানুষেরও বেশি সমর্থন গেছে তার প্রতি। গত মাসে এ দুই অঞ্চলে পরিচালিত এক জরিপে বিষয়টি উঠে এসেছে।
বিবিসি জানায়, জরিপ গবেষণা সংস্থা ইউগভ এবং সৌদি মালিকানাধীন সংবাদপত্র আরব নিউজের যৌথ উদ্যোগে এ জরিপ পরিচালিত হয়।
অংশগ্রহণকারীদের প্রায় অর্ধেকের মতামত হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বা জো বাইডেন- কেউই মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার জন্য ভালো হবেন না।
বাকি অর্ধেকের মধ্যে ৪০ শতাংশ উত্তরদাতা বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার জন্য বাইডেন বেশি উপযুক্ত এবং ১২ শতাংশ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ভালো মনে করছেন।
অনলাইনে গত মাসে মধ্যপ্রাচ্যের ১৮টি দেশে এই জরিপ চালানো হয়। জরিপের শিরোনাম ছিল- আরবরা কী চাইছেন?
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কাছে ট্রাম্প বা বাইডেন কেউই দেশটির প্রেসিডেন্ট পদে জনপ্রিয় বলে বিবেচিত হননি।
তবে তারা সামান্য এগিয়ে রেখেছেন বাইডেনকে। মূলত, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেম সরিয়ে নেবার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেটি পছন্দ করেননি জরিপে অংশ গ্রহণকারীদের ৮৯ শতাংশ।
তবে ইরাক এবং ইয়েমেনের মানুষ পছন্দ করেছেন ট্রাম্পকে। তারা মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়াসহ অন্যান্য কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন ট্রাম্প, যেটা তারা সমর্থন করেছেন।
ইরাকে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৫৭ শতাংশ বলেন, এ বছরের গোড়ার দিকে মার্কিন হামলায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের বিশেষ বাহিনী কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাশেম সোলেইমানিকে হত্যা করাকে তারা সমর্থন করেছেন। অন্যদিকে, সিরিয়ার ঠিক একই সংখ্যক মানুষ অর্থাৎ ৫৭ শতাংশ বলেছেন, তারা এই সিদ্ধান্তের বিরোধী।
বাইডেন ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ওবামার শাসনামলে হোয়াইট হাউসে আট বছর কাজ করেছেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ওই প্রশাসন সম্পর্কে তাদের কী মতামত।
উত্তরদাতারা বাইডেন সম্পর্কেও তেমন উৎসাহ দেখাননি। এদের অধিকাংশই বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা তার সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে নজর দেননি এবং তাদের জন্য তিনি তেমন কিছুই করেননি। তারা বলেন, বাইডেন যদি নির্বাচিত হন, তারা আশা করবেন তিনি যেন ওবামার নীতি থেকে দূরে থাকেন। তিনি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবেন এমনটা আশাবাদী তারা।