বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু না করতে সম্মত আজারবাইজান-আর্মেনিয়া

চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলেও যুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু না করতে সম্মত হয়েছে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া।

শুক্রবার জেনেভায় ‘মিনস্ক গ্রুপের’ কো-চেয়ার রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের উদ্যোগে দু’দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া যুদ্ধে দু’পক্ষের দেওয়া তথ্যে এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের তথ্য অনুযায়ী, দু’পক্ষে পাঁচ হাজারের বেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

এরই মধ্যে আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেইহুন বায়রামভ এবং আর্মেনিয়ার জোহরাব মাৎসাকানিয়ান জেনেভায় মুখোমুখি সংলাপে বসলেন।

দু’পক্ষ আগে স্বাক্ষরিত মানবিক যুদ্ধবিরতি মেনে চলার বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলে মিনস্ক গ্রুপের বিবৃতিতে বলা হয়।

ডন জানায়, শুক্রবারের বিবৃতিতে নতুন করে যুদ্ধবিরতির কথা উল্লেখ করা না হলেও দু’পক্ষই  ‘জরুরি ভিত্তিতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে’।

এতে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা না করতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।’ একই সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহতদের লাশ হস্তান্তরে সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে তারা একমত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, আজারবাইজানের গানজা এবং বারদা শহরে আর্মেনিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অর্ধশত বেসামরিক আজেরি নিহত হন যাদের মধ্যে শিশুও ছিল। আজারবাইজানের বিরুদ্ধেও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার অভিযোগ রয়েছে আর্মেনিয়ার।

এছাড়া যুদ্ধবন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে তাদের হস্তান্তরে এক সপ্তাহের মধ্যে এ সংক্রান্ত তালিকা রেড ক্রসকে প্রদানের কথাও বলেছে দু’দেশ।

আর্মেনিয়ার দখলে থাকা নাগরনো-কারাবাখ পুনরুদ্ধার নিয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে দেশটির সঙ্গে সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে আজারবাইজান। গত ৩০ বছর ধরে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই আজেরি ভূখণ্ড দখল করে রেখেছ আর্মেনিয়া।