গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক নির্মিত পাকা সড়কটি দীর্ঘ দিন হয়ে গেলেও সড়কটির কোন প্রকার সংস্কার করা হয়নি এখনো। সড়কটি অপরিকল্পিতভাবে খাল খননে ধসে পরে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষ।
শনিবার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক নির্মিত পাকা সড়ক উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের চর আন্ধার মানিক হতে শুরু হয়ে চর কৃষ্ণপট্টি, মামুদপুর হয়ে চর বালিয়াকান্দির পশ্চিম অংশে গিয়ে শেষ হয়েছে। এর মধ্যে কৃষ্ণপট্টি ও মামুদপুর গ্রামের অংশ পদ্মা নদীর শাখা খাল পাড় ঘেঁষে চর বালিয়াকান্দি মৌজা স্পর্শ করেছে। খালের পাড় দিয়ে বয়ে যাওয়া সড়কের অন্তত ৩শ মিটার রাস্তা সম্পূর্ণ খালে মধ্যে ধসে পড়েছে। এ ছাড়া খালের অপর পাশের স্থানীয়দের ফসলি জমিও ধসে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় লোকজন জানান, সড়ক নির্মাণের মাস কয়েক পর খালের পাড় ধসে যাওয়া শুরু করে। ৫/৬ মাসের মধ্যে পুরো সড়কটি খালে ধসে যায়। পাকা রাস্তা নির্মাণের আগে থেকে এখান দিয়ে ছোটখাটো যানবাহন চলাচল করত। পাকা রাস্তা নির্মাণের পর তার সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। এ রাস্তা ব্যবহার করে স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষ হাট-বাজারে যাতায়াতসহ শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যাওয়া আসা করত। কিন্তু মাত্র কয়েক দিনে রাস্তাটি ধসে যাওয়ায় সেখান দিয়ে একটি বাইসাইকেল যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। বর্তমানে সড়কের নব্বই শতাংশ অংশ খালের ভেতর। এতে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে তারা জানান।
এলজিইডি গোয়ালন্দ উপজেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে গোয়ালন্দের ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর আন্ধার মানিক রেললাইন থেকে শুরু হয়ে চর বালিয়াকান্দি পশ্চিম পার্শ্ব পর্যন্ত ৬৩৫ মিটার দীর্ঘ পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাজবাড়ী টিম্বার অ্যান্ড ট্রেডার্স ৪০ লাখ টাকা ব্যয় করে সড়কটি নির্মাণকাজ শেষ করে। সড়কের পাশ দিয়ে পদ্মা নদীর শাখা খালে প্রবাহিত হয়েছে। রাস্তাটি নির্মাণকাজ চলাকালেই পানি উন্নয়ন বোর্ড ওই শাখা খাল পুনখনন করে। অপরিকল্পিত ভাবে রাস্তার পাশ দিয়ে গভীর করে খাল খনন করায় বৃষ্টি ও পানি প্রবাহের চাপে রাস্তার অনেকটা অংশ খালে ধসে পড়েছে।