রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় মতিঝিলে বিল্লাল হোসেন (৪০) ও সবুজবাগে সনিয়া আক্তার সুমি (১৯) নামে দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার মধ্যরাতে পুলিশ মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছে।
মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জয়নাল আবেদীন জানান, কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার আব্দুল খালেকের ছেলে বিল্লাল হোসেন। এক মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে মতিঝিল টিএন্ডটি কলোনির জি ১২/১/২ নম্বর বাসার নিচ তলায় ভাড়া থাকতেন। ফকিরাপুলে একটি ওয়ার্কশপে কাজ করতেন তিনি।
এসআই জানান, রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসায় সবার অগোচরে রুমের দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেন বিল্লাল হোসেন। রুমের দরজা বন্ধ ও তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের লোকজন একপর্যায়ে বাড়িওয়ালার সহযোগিতায় দরজা খুলে ভেতরে গিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
পরে থানায় খবর দিলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই বাসা থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। কী কারণে বিল্লাল গলায় ফাঁস দিয়েছেন তা এখনো জানা সম্ভব হয়নি। বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে।
মৃত বিল্লাল হোসেনের ছোট ভাই মো. শাহ জালাল জানান, ফকিরাপুলের সেলিমের ওয়ার্কশপে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেন তিনি। লকডাউনের পর থেকে তিনি নিয়মিত বেতন পেতেন না। এ জন্য হতাশা ছিল ও সব সময় পরিবার নিয়ে টেনশনে থাকতেন তিনি।
তাদের ধারণা হতাশা থেকেই বিল্লাল এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।
এদিকে সবুজবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, সনিয়া স্বামী শামীম সরদারকে নিয়ে সবুজবাগ কদমতলা ৮ নম্বর লেনে একটি বাসার নিচ তলায় ভাড়া থাকতেন। সুমির বাড়ি বাগেরহাট জেলায়।
গত চার মাস আগেই তাদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। শামীম কিছুটা এবনরমাল ছিলেন। তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ক্যামেরাম্যানের কাজ করতেন আর সনিয়া গৃহিণী। সনিয়া তার স্বামী শামীমকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না। সব সময় স্বামীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন।
এই নিয়ে সনিয়ার বাবা গতকাল রবিবার এসে সুমির সঙ্গে একটু রাগারাগি করেন ও অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে যান। বাবা চলে যাওয়ার পর রাত ১০টার দিকে রুমের দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেন তিনি।
পরে খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে ওই বাসায় গিয়ে দরজা ভেঙে ঝুলন্ত অবস্থায় থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশের ধারণা, বাবার সঙ্গে মনোমালিন্যর কারণেই সনিয়া আত্মহত্যা করেছেন।