ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে প্রদর্শিত হচ্ছে মাসুদ হাসান উজ্জ্বল পরিচালিত ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’। দ্বিতীয় সপ্তাহে এসেও সিনেমাটির প্রতি দর্শক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এ সময় এসে পরিচালক বলেন, আমিও নিন্দা গ্রহণ না করবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
মূলত নেতিবাচক রিভিউ নিয়ে উজ্জ্বলের এ মন্তব্য। তার ভাষ্যে, “যেখানে ঈশ্বর সব জায়গায় বলে রেখেছেন সকল প্রশংসা তাঁর, একজন সৃজনশীল মানুষ হিসাবে আমিও নিন্দা গ্রহণ না করবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
এ বিষয়ে তার পুরো ফেইসবুক পোস্টটি পড়ুন—
“ঊনপঞ্চাশ বাতাস প্রথম সপ্তাহ পেরিয়ে দ্বিতীয় সপ্তাহের মাঝামাঝি রয়েছে। মনে হলো সকলের উদ্দেশ্যে দুটো কথা বলি। গত ১৫টি বছর টেলিভিশনের জন্য যৎসামান্য যা কাজ করেছি তাতে একটা তকমা পেয়েছি- আমি বোদ্ধা শ্রেণির দর্শকের জন্য কাজ করি। যখন নতুন নতুন কাজ করতে এসেছিলাম তখন এই তকমা খুব একটা মন্দ লাগতো না। কিন্তু ক্রমেই লক্ষ্য করলাম আমাকে এইভাবে বিশেষায়িত করে রাখবার কারণে আমার একটা বৃহৎ শ্রেণির দর্শকের কাছে পৌঁছানো মুশকিল হয়ে যাচ্ছে!
ফলে ঊনপঞ্চাশ বাতাস নিয়ে আমি দর্শকের মনের ঘরে উঁকি মারার চেষ্টা করেছি, কতটা পেরেছি সেটা সময়ই বলে দেবে।
তবে ঊনপঞ্চাশ বাতাস আমাকে এই আত্মবিশ্বাস দিয়েছে যে- মানুষের মন খানিকটাও বুঝে উঠতে পারলে বিচ্ছিন্ন থেকেও কাছে থাকা যায়! যারা আমার জীবনযাপন সম্পর্কে জানেন বা অনুমান করতে পারেন, তারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারেন আমি কতটা বন্ধু-পরিজনহীন নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করি। আমার যে বন্ধু-পরিজন নেই তা নয়, কিন্তু আমার চেনা-জানা বা ঘনিষ্ঠ মানুষের পরিধি কম। আমি একা শিল্পের অনেকগুলো শাখা নিয়ে কাজ করি, তাই আমার আড্ডা বা গণসংযোগের সময় হয়ে ওঠে না, এ ছাড়া একাকিত্ব আমার কাজের জন্য জরুরি বলে আমি মনে করি।
এতোগুলো ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার পেছনে একটা কারণ রয়েছে।
ঊনপঞ্চাশ বাতাসকে আপনারা যেভাবে গ্রহণ করেছেন তা অভূতপূর্ব! এতো এতো উচ্ছ্বসিত প্রশংসা যারা করেছেন তাদের বেশির ভাগের সাথেই আমার ব্যক্তিগত আলাপ বা পরিচয় নেই! আর যাদের সাথে আলাপ রয়েছে, তাদের দু-চারজন ছাড়া বেশির ভাগ মানুষের সাথেই আমার আহামরি ঘনিষ্ঠতা নাই! আমি বন্ধুবান্ধবের চোখে গ্লিসারিন দিয়ে হলে পাঠাইনি যে তারা একযোগে হলে গিয়ে আমার জন্য কেঁদে এসেছেন! ঢাকার বাইরে থেকে অসংখ্য মানুষ ঢাকায় এসেছেন কেবলমাত্র ঊনপঞ্চাশ বাতাস দেখতে! আপনাদের প্রতি রইল আমার কৃতজ্ঞতা!
দু-চারটি নিন্দাসূচক লেখা যে চোখে পড়েনি তা নয়, সেগুলো দু-তিন লাইন পড়ার পর আমি আর পড়ি না। যেখানে ঈশ্বর সব জায়গায় বলে রেখেছেন সকল প্রশংসা তাঁর, একজন সৃজনশীল মানুষ হিসাবে আমিও নিন্দা গ্রহণ না করবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আর একধরনের নিন্দাসূচক রিভিউ দেখে যদি শিল্পের শিক্ষা নিতে হয়, তাহলে শিল্প না করে মলম বিক্রি করাই শ্রেয়। আমি স্ব-শিক্ষিত মানুষ, আমি কারো কাছে শিক্ষা নেই না।
সগৌরবে ঊনপঞ্চাশ বাতাস চলছে। যাদের কারণে চলছে সেই দর্শকরাই বাংলা চলচ্চিত্র এখনো বাঁচিয়ে রেখেছেন, আপনাদেরকে টুপি খোলা অভিবাদন।”
‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’-এ প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ ও শার্লিন ফারজানা।
পরিচালনার পাশাপাশি ছবিটির কাহিনি, সংলাপ, চিত্রনাট্য, শিল্পনির্দেশনা ও সংগীত পরিচালনা করছেন মাসুদ হাসান উজ্জ্বল নিজেই।