শন কনারি পারবেন তো, সন্দেহ ছিল জেমস বন্ড স্রষ্টার

জেমস বন্ড স্রষ্টা ইয়ান ফ্লেমিংয়ের সন্দেহ ছিল, তার লেখা চরিত্রে শন কনারিকে মানাবে কি-না। লেখকের মতে, শন কনারি ততটা ক্লাসি নন, যতটা হলে বন্ডকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা যায়!

কিন্তু প্রথম বন্ড মুভি ‘ডক্টর নো’র অন্যতম প্রযোজক অ্যালবার্ট ব্রকোলি শুরু থেকেই বাজি ধরেছিলেন সদ্য প্রয়াত এ অভিনেতার ওপরে। এবং ছবি মুক্তির পরে ইয়ান ফ্লেমিংও নিজের ভুল স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

রেকর্ড সাতটি মুভিতে ‘০০৭’ এর জুতায় পা গলিয়েছেন শন কনারি। তার পরে জর্জ লেজেনবি, রজার মুর, টিমোথি ডালটন, পিয়ার্স ব্রসনান বা ড্যানিয়েল ক্রেইগ— অনেকেই এসেছেন। কিন্তু সেরা বন্ড একজন, শন কনারি! কেন?

তিনি বন্ডের যে ক্যারেক্টার স্কেচ জনমানসে তৈরি করে দিয়েছিলেন, তার থেকে আর কেউ বেরোতে পারেননি। ‘ডক্টর নো’র প্রথম দৃশ্যটা— জুয়ার টেবিলে বসে ঠোঁটের বাঁ দিকে সিগারেট চেপে, উল্টো দিকের সুন্দরীর চোখে চোখ রেখে সংলাপ বলার স্টাইলেই দর্শক কাত। বলা হয়ে থাকে, ফ্লেমিংয়ের বইয়ের পাতা থেকে বন্ডকে আরও ক্ষুরধার, আরও স্মার্ট করেছিলেন শন। গালে টোল ফেলে যখন বলতেন, ‘মাই নেম ইজ় বন্ড, জেমস বন্ড’ বা ‘ভডকা মার্টিনি, শেকেন নট স্টারড’— সেই আবেদন উপেক্ষা করে কার সাধ্য!

প্রতিদ্বন্দ্বী বন্ড রজার মুরের কথায়, ‘‘বন্ড একজনই ছিলেন, শন কনারি। আমরা তো শুধু অভিনয় করতাম।’’

শনের সেক্স অ্যাপিল ও এলিগ্যান্সকে দারুণভাবে ব্যবহার করেছিলেন নির্মাতারা। যে কারণে বন্ড গার্লদের সঙ্গে তার রোম্যান্টিক দৃশ্যগুলো এত আলোচিত। ‘ডক্টর নো’ ছবিতে উরসুলা আন্দ্রেসের সমুদ্র থেকে উঠে আসার দৃশ্য আজও ‘কপিবুক শট’। বন্ড ছবি মানেই উদ্দাম প্রেম। কখনো উরসুলা, কখনো ড্যানিয়েলা বিয়াঙ্কে, অনর ব্ল্যাকম্যান, ক্লডিয়া ওজে— বন্ড গার্লদের সঙ্গে শনের রোম্যান্টিক দৃশ্য শুধু মিঠে কথার মোড়কে আটকে ছিল না, ছিল দৃশ্যায়ন ও আবেদনের বৈচিত্র্য।

বন্ড গার্লদের সঙ্গে শনের সম্পর্ক ছিল ষাটের দশকে আলোচনা তোলা বিপণন কৌশল। শনের সঙ্গে তার অভিনেত্রীদের ‘বিহাইন্ড দ্য সিন’ খুব যত্ন করে বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। বলা যায়, কৌশল বরাবরই বাজিমাত করে।

শন কনরি কিন্তু নিজেকে শুধু বন্ড অভিনেতা হিসেবে ভাবতেন না। উল্টো বলতেন, ‘‘বন্ডকে আমি সহ্য করতে পারি না।’’ যে কারণে ‘ডায়মন্ডস আর ফরএভার’-এর ১২ বছর বাদে ফের বন্ড চরিত্র করেছিলেন ‘নেভার সে নেভার অ্যাগেইন’ ছবিতে। তত দিনে বয়স আর মেদ ছাপ ফেলেছে চেহারায়। এ ছবির নাম তার স্ত্রীর দেওয়া। কারণ শন ঘোষণা করেছিলেন, আর কোনো দিন বন্ডের চরিত্র করবেন না। কিন্তু স্পাই এজেন্ট তার পিছু ছাড়েনি। মৃত্যুর পর সেই জেমস বন্ডেরই চর্চা হচ্ছে!