উপনির্বাচন: ঢাকা-১৮

গণসংযোগে বাধা দিলে সিইসির অফিসে গিয়ে বসে পড়ব: জাহাঙ্গীর

ঢাকা-১৮ আসনে আসন্ন উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, একজন প্রার্থী হিসেবে ভোটারদের মাঝে শান্তিপূর্ণ গণসংযোগে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার (সিইসি) অফিসে বসা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। সোমবার টানা নবম দিনের মতো গণসংযোগকালে তিনি এ কথা বলেন।

সকাল ১০টায় উত্তরখান মাজার থেকে গণসংযোগ শুরু কথা ছিল এই প্রার্থীর। কিন্তু সেখানে আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীরা পাল্টা কর্মসূচি দেয়ায় তা সম্ভব হয়নি। পরে সাড়ে ১১টার দিকে বিকল্প সড়কে জাহাঙ্গীর গণসংযোগ শুরু করেন। এরপর উত্তরা ৮ নং সেক্টরের মালেকাবানু আদর্শ বিদ্যানিকেতন, আইচি হাসপাতাল, মহিলা ও শিশু হাসপাতাল, পল্লী বাজার এলাকায় গণসংযোগ শেষে পলওয়েল শপিং মলের সামনে সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য রাখেন।

এ সময় এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমরা কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাই না। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশ, আওয়ামী লীগ বাধা দিলেও শান্ত থেকেই গণসংযোগ কর্মসূচি করতে হবে। আপনারা দেখছেন, আমরা যেখানে কর্মসূচি দিচ্ছি, সেখানে আওয়ামী লীগ পাল্টা কর্মসূচিসহ নানাভাবে বাধা দিচ্ছে। তা সত্ত্বেও যেখানে যাচ্ছি সেখানে ধানের শীষের পক্ষে জনসমুদ্র হয়ে যাচ্ছে। শক্তি-সামর্থ্য ও জনসমর্থন থাকার পরও আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি এবং সে পথেই আছি।

ধানের শীষের এই প্রার্থী বলেন, আমরা সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে মিটিং করেছিলাম। তিনি আমাদের কথা দিয়েছিল, ‘২৭ অক্টোবরের পর থেকে আপনারা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে যেখানে যেভাবে কর্মসূচি দেবেন তা করতে পারবেন, কোনো সমস্যা হবে না’। কিন্তু আমরা দেখেছি, সিইসি আমাদের যে কথা দিয়েছিলেন তা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি।

তিনি বলেন, আমরা প্রধান নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আপনারা যদি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না করেন, এলাকায় যদি গণসংযোগ করতে না পারি, জনগণের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কোনো রকম বিশৃঙ্খলা হবে না, আওয়ামী লীগ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে- তা আমরা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু এলাকায় ভোট চাইতে পারব না, এলাকায় গণসংযোগ করতে পারব না-তাহলে কিন্তু ওই সিইসি’র অফিসে বসে থাকা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।     

গণসংযোগ শেষ করে পুলিশের উদ্দেশ্যে এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, আপনারা আমাদের কারও বাবা, কারও ভাই, কারও সন্তান। আপনাদের কাছে অনুরোধ করব, একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার জন্য যা যা করা দরকার সেটা চেষ্টা করেন।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন রাজীব আহসান, আকরামুল হাসান, যুবদলের মোরতাজুল করিম বাদরু, সোহেল আহমেদ, মহানগর বিএনপি নেতা আবদুল আলীম নকি,স্বেচ্ছাসেবক দলের ফখরুল ইসরাম রবিন, বাংলা কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি আইয়ুব হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা।