ডোমারে টেলিফোন এক্সচেঞ্জ বিকল এক বছর

প্রতি মাসে গ্রাহকের ঘাড়ে বিল চাপাচ্ছে বিটিসিএল

এক বছর ধরে বিকল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ। সেবা থেকে গ্রাহকরা বঞ্চিত। এরপরও গ্রাহকদের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে বিলের বোঝা। এমন অভিযোগ উঠেছে নীলফামারীর ডোমার টেলিফোন এক্সচেঞ্জ কার্যালয়ের বিরুদ্ধে।

শুধু তাই নয়, তার চুরি যাওয়ায় ১০ বছর ধরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে টেলিফোন বিকল থাকার পরেও এক গ্রাহককে প্রতি মাসে নিয়মিত বিলের রসিদ পাঠানো বন্ধ করেনি কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে বারবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি ওই গ্রাহক।

টেলিফোন এক্সচেঞ্জ সচলসহ গ্রাহক সেবা চালু না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছে বিল পাঠানো বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন ডোমার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ২১৭ জন গ্রাহক।

গ্রাহকরা বলেন, ডোমার টেলিফোন এক্সচেঞ্জটি প্রায় এক বছর ধরে বিকল। ফলে আমাদের ফোনে কল আসেও না, আমরা কোথাও কল করতেও পারি না। বাড়িতে ও অফিসে টেলিফোন থাকলেও সেটি আমাদের কোনো কাজে আসছে না। কিন্তু গ্রাহক সেবা বন্ধ থাকলেও টেলিফোন বিভাগ থেকে প্রতি মাসে ন্যূনতম ১৭৩ টাকা বিল চাপানো হচ্ছে গ্রাহকের ঘাড়ে।

থানাপাড়ার গ্রাহক ফিরোজ ফারুক বলেন, বাসায় টেলিফোন থাকলেও এক বছর ধরে কোনো সেবা পাচ্ছি না। কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানিয়েছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। সেবা না থাকলেও প্রতি মাসে ন্যূনতম বিল ১৭৩ টাকা করে যোগ হচ্ছে।

ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা শবনম বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে এখানে যোগদান করেছি। এক দিনও টেলিফোনে কাউকে ফোন দিতে পারিনি। কিন্তু প্রতি মাসে ন্যূনতম বিল দিচ্ছি।

বিটিসিএল নীলফামারী কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন বলেন, নীলফামারী থেকে ডোমার পর্যন্ত মহাসড়কের কাজে মাটি খোঁড়াখুঁড়ির কারণে অপটিক্যাল ফাইবার কেব্ল কেটে যাওয়ায় একচেঞ্জটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন আছে। সেবা বন্ধ থাকলেও বিল চলমান থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি বিটিসিএলের নিয়ম। বিল বন্ধ করার এখতিয়ার আমাদের নেই।

নীলফামারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মনজুরুল করিম বলেন, জমি অধিগ্রহণ করার পরে টেলিফোন বিভাগ ওই সড়ক দিয়ে কেব্ল স্থাপন করে। তারা এ বিষয়ে আমাদের অবহিত করেনি। এছাড়া ওই কেব্ল সড়কের পাশ দিয়ে অন্তত চার ফুট মাটির নিচে স্থাপনের কথা। কিন্তু তারা সেটি না করে মাটির দুই ফুট নিচ দিয়ে স্থাপন করে। এ কারণে মাটি খোঁড়খুঁড়িতে কেব্ল কাটা পড়েছে।