৭ দফা দাবিতে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

চলমান অসমাপ্ত পরীক্ষা দ্রুত সময়ের মধ্যে নেওয়া, ৯০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশসহ ৭ দফা দাবিতে বুধবার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সময়মতো পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয় না। আগে থেকেই সেশনজটে জর্জরিত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য করোনাভাইরাস যেন মরার উপর খরার ঘা। সমস্যা উত্তরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। 

ঢাকা কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ওবায়দুল্লাহ বলেন, আমরা সেশনজটে আছি আগে থেকেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে অনার্স তৃতীয় বর্ষ ও চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাত কলেজের সমন্বয়ক ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খন্দকার বলেন, করোনাকালীন সময় বিবেচনা করতে হবে। পুরো বিশ্বেই শিক্ষাখাতে সংকট তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ক্লিয়ারেন্স ছাড়া তো পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না। আমাদের সকল প্রস্তুতি রয়েছে কলেজ খুললেই সকল পরীক্ষাগুলো নিয়ে নেব।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে এসব বিষয়ে এ পর্যন্ত আমরা চারবার মিটিং করেছি। আমরা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার প্রচেষ্টায় রয়েছি। 

নতুন সেশন ( ১৭-১৮থেকে পরবর্তী)  গুলোর প্রমোটেড নিয়ম সম্পর্কে জানতে চাইলে সেলিম উল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীরা এই নিয়মগুলো সম্পর্কে জেনেই ভর্তি হয়েছে। প্রথম বছর শিক্ষার্থীরা নিয়ম সম্পর্কে পুরোপুরি না জানায় একবার বিশেষ সুযোগ দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এখন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করতে হবে এবং শৃঙ্খলার মধ্যে আসতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তো তাদের নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাবে না। 

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো— সকল সেশনকে পরবর্তী সেশনে ক্লাস করার কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; অনার্স ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা অতি দ্রুত নিতে হবে এবং ফল প্রকাশ করতে হবে; সকল বর্ষের ফলাফল ৯০ দিনের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে;

ডিগ্রী ২০১২-১৩ বর্ষের চলমান বিশেষ পরীক্ষা অতি দ্রুত নিয়ে এক মাসের মধ্যে ফল প্রকাশ করতে হবে; ২০১৭-১৮ ও ২০১১৮- ৯ শিক্ষাবর্ষের ২.০০/২.২৫/২.৫০ পয়েন্টে পরবর্তী বর্ষে প্রমোটেডের নিয়ম বাতিল করতে হবে এবং তিন বিষয় পর্যন্ত অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের প্রমোটেড করতে হবে; 

সকল মানোন্নয়ন পরীক্ষা অতি দ্রুত নিতে হবে এবং ডিগ্রী অনার্স মাস্টার্স সহ সকল বর্ষের ফলাফল গণহারে অকৃতকার্য হওয়ার কারণ সহ খাতা পুনঃমূল্যায়ন করতে হবে; মাস্টার্স ২০১৬-১৭ সেশন এর চলমান পরীক্ষা শেষ করে অতি দ্রুত ফল প্রকাশ করতে হবে এবং ২০১৪-১৫ বর্ষের অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অতি দ্রুত পরীক্ষা নিয়ে মাস্টার্সে ভর্তির সুযোগ দিতে হবে।