ব্যাংকের সিঁড়িতেই ঘুষের টাকা কেটে নেন ইউপি সদস্য

সামাজিক সুরক্ষার আওতায় সরকার দেশের প্রতিটি গ্রামে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীদের ভাতা দিচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগের কারণে গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ উপকৃত হচ্ছে। কিন্তু কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার জিংলাতুলি ইউনিয়নে এই অসহায় মানুষের ভাতা নিয়ে নয়-ছয় করার অভিযোগ উঠেছে ওই ইউনিয়নের মহিলা ইউপি সদস্য (মেম্বার) মাকসুদা আক্তার ও গোপচর গ্রামের হাবীবের বিরুদ্ধে।

হাবীব গোপচরের দানু মিয়ার ছেলে। টাকা তোলার পর মাকসুদা মেম্বারের কথায় হাবীব ব্যাংক থেকে টাকা তোলার পর ব্যাংকের সিঁড়ি থেকেই জনপ্রতি দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেছেন কার্ডধারীরা।

দাউদকান্দি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, জিংলাতুলি ইউনিয়নে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ১ হাজার ৬৩ জন। এর মধ্যে প্রতিবন্ধী ভাতা পান ২২১ জন। সুবিধাভোগী ব্যক্তিরা এবার (গত বৃহস্পতিবার) এক বছরের প্রতিবন্ধী ভাতা ৯ হাজার করে টাকা তোলেন।

সরেজমিন গেলে গোপচর গ্রামের প্রতিবন্ধী সাইজুদ্দিন বলেন, ‘ভাতার নয় হাজার টাকা তুলে ব্যাংকের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার পর মাকসুদা মেম্বারের কথায় হাবীব মিয়াসহ আরও দুজন লোক চেয়ারম্যানের নাম বলে খরচের নামে তিন হাজার টাকা এবং ভাতার বইটি রেখে দেয়। প্রতিবন্ধী সবার কাছ থেকেই চার-পাঁচ হাজার টাকা করে রেখেছে হাবীব।’

চেয়ারম্যানকে জানিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, হাবীব আমার আপন ভাই, সে সবসময়ই চেয়ারম্যানের সঙ্গে থাকে, তাই চেয়ারম্যানকে বলিনি।

একই গ্রামের হান্নান মিয়া তার প্রতিবন্ধী ছেলে জিসানের নামে এবার প্রথম ভাতার টাকা পেয়েছেন। হান্নান মিয়া বলেন, ব্যাংকের গেইটে হাবীব তিন হাজার টাকা রেখে দেয়, পরে জোড়াজুড়ি করে এক হাজার টাকা দিয়েছি। আমাদের বইটিও সে রেখে দিয়েছে। একই কথা বলেন প্রতিবন্ধী ইকবাল হোসেনের বাবা শান্তি মিয়া।

মহিলা ইউপি সদস্য মাকসুদা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ব্যাংকের ভেতরে ছিলাম, বাইরে কে কী করেছে আমি তা জানি না।

জিংলাতুলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, হাবীব আমার পরিষদের কোনো লোক না। আর টাকা লেনদেনের বিষয়টি কেউ আমাকে বলেনি। বিষয়টির খোঁজ নিচ্ছি।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেলিম শেখ বলেন, ভাতার টাকা নিয়ে কোনো রকমের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। তদন্ত করে অনিয়ম পেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।