গত কয়েক বছরের তুলনায় বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের কিছু এলাকা থেকে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। এ চোখধাঁধানো সৌন্দর্য পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলা থেকেও দেখা যাচ্ছে। এ নিয়ে বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমগুলো সরগরম।
একই সময়ে বরফ মোড়া কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ভারতের শিলিগুড়ি শহরের বাসিন্দারা।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, মাত্র এক দশক আগেও বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে শিলিগুড়ির অনেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পেতেন। কিন্তু এখন আর দেখা যায় না। বেশির ভাগ সময়েই কাঞ্চনজঙ্ঘাকে আড়াল করে দেয় ঢাউস ঢাউস বিজ্ঞাপন।
নগরায়ণের ফলে শহরবাসীর সুবিধা বাড়লেও আড়াল হয়েছে হিমালয়ের শৃঙ্গটি। শিলিগুড়ির মহানন্দা সেতু লাগোয়া মোড়, উড়ালপুল, মাল্লাগুড়ি, চম্পাসারি বা জংশন এলাকা থেকে সোজাসুজিই দেখা যেতো কাঞ্চনজঙ্ঘা। তবে এখন সেখান থেকেও কখনো কখনো চোখে পড়ে বড় বড় বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং।
কয়েক বছর ধরেই শহরের নির্দিষ্ট কিছু এলাকা হোর্ডিংমুক্ত রাখার আহ্বান করেছে চলেছেন পরিবেশপ্রেমীদের একাংশ। কিন্তু বেশির ভাগ সময়ই ওই দাবি উপেক্ষিত থেকে যায় বলে অভিযোগ। সম্প্রতি ঝকঝকে আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘাকে স্পষ্ট দেখা যেতেই এই দাবি আবার উঠতে শুরু করেছে।
পরিবেশপ্রেমী সংগঠন ন্যাফের কো-অর্ডিনেটর অনিমেষ বসু বলেন, ‘‘কতবার আমরা পৌরসভা, প্রশাসনকে হোর্ডিং নিয়ন্ত্রণ করতে বলেছি। লাভ হয়নি। পুরোপুরি দৃশ্যদূষণ।’’
পরিবেশপ্রেমী সংগঠন নর্থবেঙ্গল এক্সপ্লোরার্স ক্লাবের সদস্য নবনীশ দত্ত প্রায়ই সাত সকালে সাইকেলে শহরে ঘোরেন। কয়েক দিন আগে উড়ালপুলে উঠেই আঁতকে উঠেছেন তিনি। তার কথায়, ‘‘আমার আপনার প্রিয় কাঞ্চনজঙ্ঘা হোর্ডিং ব্যবসায়ীদের দখলে গেছে বলা চলে। পরিস্থিতির জন্য দায়ী পৌরসভা।’’
লকডাউনের জেরে বাতাসে দূষণ কমেছে। কয়েক দিন আগের বৃষ্টির জন্য ধূলিকণাও কম। বাতাসের গুণগত মানের উন্নতি হয়েছে। সেই জন্য শিলিগুড়ি তো বটেই কোচবিহার, রায়গঞ্জ, বালুরঘাট থেকে দেখা মিলছে কাঞ্চনজঙ্ঘার। তবে শিলিগুড়ির বাড়তে থাকা বহুতলের পাশাপাশি হোর্ডিংয়ে বাধা হচ্ছে এই দৃশ্য।