চোরাকারবারি চক্রের হাত থেকে বিপন্ন প্রজাতির বিপুল বন্য পাখি উদ্ধার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের সামনে আকাশে উড়িয়ে দিয়েছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে পাখি চোরাকারবারি চক্রের চার সদস্যকে দ-াদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে র্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম পাখিগুলো অবমুক্ত করার পাশাপাশি চার কারবারিকে দন্ডাদেশ প্রদান করেন।
এর আগে র্যাব-১ ও বন বিভাগের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের সহযোগিতায় সাভারের আশুলিয়া থেকে তিন প্রজাতির ৭১০টি পাখি উদ্ধার করে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর মধ্যে বেশিরভাগ টিয়া, ঘুঘু ও মুনিয়াজাতীয় পাখি। এ সময় অবৈধভাবে বন্য প্রাণী শিকার ও বিক্রির দায়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে এক বছর করে কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন চাঁন মিয়া, রহমত শেখ, উসমান গনি ও রফিকুল ইসলাম।
র্যাবের ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, বিপন্ন প্রজাতির পাখিগুলোর বেশির ভাগ বগুড়া থেকে ধরে ঢাকায় আনা হয়। আইনত এটা অপরাধ। চাই না এ ধরনের অপরাধ কেউ করুক, প্রকৃতি সবার জন্য। কেউ প্রকৃতি বা ডাইভারসিটি নষ্ট করলে আমরা তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসব। একই সঙ্গে আমরা একটি বিষয় স্পষ্ট করতে চাই, এই পাখিগুলো আমাদের সম্পদ। পাখির মাধ্যমে প্রকৃতির ফুল-ফলের পরাগায়ন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হয়। বন্য প্রাণী অপরাধ দমন আইন ২০১২ অনুযায়ী বিপন্ন প্রজাতির পাখি ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ।
গতকাল কার্জন হলে পাখিগুলো অবমুক্ত করার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ ও পেইজে বিভিন্ন ধরনের বন্য প্রাণী বিক্রি করার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ কেমনÑ এমন প্রশ্নের জবাবে সারওয়ার আলম বলেন, বন বিভাগের পাশাপাশি র্যাবের সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে; বিশেষ করে যারা সরকার, রাষ্ট্র ও পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ড করবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
র্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, সারা দেশে বন বিভাগের পাশাপাশি র্যাবের সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে পাখি শিকারিদের ওপর। সেই সঙ্গে সাধারণ জনগণও বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারেন। এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন।