থার্ড সিনেমার পথিকৃৎ ফার্নেন্দো সোলানাসের চিরবিদায়

প্রবাদপ্রতিম চলচ্চিত্র নির্মাতা, থার্ড সিনেমার পথিকৃৎ, রাজনীতিবিদ ফার্নান্দো পিনো সোলানাস করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৪। 

ইউনেসকোতে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধি হিসেবে ফ্রান্সে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। প্যারিসের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

শনিবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। কভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে কিছুদিন আগেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন সোলানাস। তার স্ত্রী আ্যঞ্জেলা কোরেয়াও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।

একাধারে, শিল্পী, আইনপ্রণেতা এবং সিনেটর

পিনো সোলানাসের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে ফরাসী সরকার। টুইটারে প্রকাশিত বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, তার শিল্প, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং তার নীতির জন্য সারাজীবন মানুষ সোলানাসকে স্মরণ করবে।

বৈপ্লবিক মতাদর্শ, আপোষহীন নীতি এবং নতুন ধারার চলচ্চিত্রের জন্য বিখ্যাত এই আর্জেন্টাইন। আজীবন সমাজ পরিবর্তনের কথা বলে গেছেন তিনি, প্রাণ-প্রকৃতি সংরক্ষণের কথা বলেছেন। বয়সের ভারও তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে পারেনি। শেষ সময় পর্যন্ত আর্জেন্টিনার মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন।

২০১৯ সালে ফ্রেন্তে দে তোদোসের সাথে জোট গঠনের ঘোষণা দেন তিনি, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সমর্থন দেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফার্নান্দেজকে।

অগ্নিঝরা বক্তব্যের জন্যেও জনপ্রিয় ছিলেন সোলানাস। আর্জেন্টিনায় গর্ভপাত বৈধ করার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন তিনি। এক মাস আগেও পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে কথা বলতে ভ্যাটিকানে পোপের সাথে সাক্ষাত করেন তিনি। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরও সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব ছিলেন। কভিড-১৯ প্রতিহত করার প্রত্যয় জানিয়ে পোস্টও দিয়েছিলেন।

তবে রাজনীতিবিদ হিসেবে যতটা সফল, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বিশ্ব চলচ্চিত্রে। হলিউডের প্রাধান্যকে পাশ কাটিয়ে নতুন ধারার চলচ্চিত্রের পথ খুঁজেছেন তিনি।

১৯৩৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেয়া সোলানাসের নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র,  ১৯৬২ সালের শর্ট ফিল্ম সেগুইর আনদান্দো। সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন ১৯৬৭ সালে তিন পর্বের ডকুমেন্টারি লা হোরা ডে লস হরনোস দিয়ে। চার ঘন্টার চেয়েও দীর্ঘ এই ডকুমেন্টারি নির্মাণে তার সঙ্গী হয়েছিলেন অক্টাভিও গেতিনো। স্বৈরাচার ও কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে, রাজনৈতিক চলচ্চিত্রের বড় উদহারণ হয়ে আছে এই ডকুমেন্টারি। এই গেতিনোকে সঙ্গে নিয়েই পরবর্তীতে রচনা করেন 'টোয়ার্ডস এ থার্ড সিনেমা' ম্যানিফেস্টো।  লাতিন চলচ্চিত্রে নতুন ধারার আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে এই ম্যানিফেস্টোতে।

২০ টিরও বেশি চলচ্চিত্রের নির্মাতা সোলনাসের সবচেয়ে প্রশংসিত কাজ ১৯৮৫ সালের 'এল এক্সাইলো ডি গার্ডেল (ট্যাংগোস)' এবং ১৯৮৮ সালের 'সার', দ্বিতীয়টির জন্য কান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা পরিচালকের পুরস্কার জেতেন।

এছাড়া, আর্জেন্টিনার ২৫ বছরের ইতিহাস নিয়ে ২০০৪ সালে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র 'মেমোরিয়া ডেল সাকোয়ো' এর জন্যও খ্যাতি পান তিনি।  বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ডকুমেন্টরিটি প্রদর্শনের পর, চলচ্চিত্রে তাঁর  অবদানের  জন্য সম্মানজনক গোল্ডেন বিয়ার পুরস্কারে ভূষিত হন সোলানাস।