মেডিকেল শিক্ষার্থীদের শাহবাগ মোড় থেকে সরিয়ে দিল পুলিশ

সেশনজট নিরসনসহ চার দাবিতে ঢাকার শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভরত মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ।

রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে এই অবরোধের কারণে শাহবাগ মোড় হয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে বেলা সোয়া ১টার দিকে পুলিশ ‘বলপ্রয়োগ’ করে তাদের সরিয়ে দেয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কিও হয়।

প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চার দফা দাবি নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন মেডিকেল শিক্ষার্থীরা।

তাদের দাবিগুলো হলো- করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে প্রফেশনাল পরীক্ষা না নেওয়া, সেশনজট নিরসন করে যথাসময়ে কোর্স সম্পন্ন করার ব্যবস্থা, বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ৬০ মাসের বেশি বেতন না নেওয়া ও মহামারির সময় পরীক্ষা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হলে দায়ভার কর্তৃপক্ষকে নেওয়া।

আন্দোলনকারী একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘দাবিগুলো মেনে নিয়ে লিখিত আকারে নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত আমরা রাস্তা ছাড়ব না।’

এসব দাবি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শাহরিয়ার নবীর সঙ্গে দেখা করেন আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীরা।

সেদিন পাওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দাবি পূরণের নোটিশের আশায় বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা রবিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জড়ো হন। সেখান থেকে তারা ডিনের কার্যালয়ে যান।

কিন্তু নোটিশ না পেয়ে বেলা ১১টার দিকে শ তিনেক মেডিকেল শিক্ষার্থী মিছিল করে শাহবাগের দিকে রওনা হন। শাহবাগ থানার সামনে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল থামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বাধা উপেক্ষা করে শাহবাগ মোড়ে চলে আসেন এবং সেখানে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন।  

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. হারুনুর রশীদ বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ডিনের সাথে কথা বলেছি, ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন পরীক্ষা না নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছি, ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি। নগরবাসীর চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার আমরা নেব।

এরপর বেলা সোয়া ১টার দিকে পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে অগ্রসর হলে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করলে শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড় থেকে সরে গিয়ে জাতীয় গণগ্রন্থাগারের সামনে অবস্থান নেন।