ফটিকছড়িতে প্রেমিককে আটকে রেখে তরুণীকে দলবেঁধে ধর্ষণ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে প্রেমিককে আটকে রেখে তরুণীকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার পাঁচ জনের মধ্যে চারজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন- আবুল মনসুর (৩৫), মো. সালাউদ্দিন (৩৮), মো. ইয়াছিন (২৩), মো. পারভেজ (২৫)।

শুক্রবার গভীর রাতে ফটিকছড়ির ভুজপুর থানার নারায়ন হাট ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটলেও শনিবার বিষয়টি জানাজানি হয়।  জানা যায়,  প্রেমিকের বাড়িতে যাওয়ার পথে তরুণীকে জঙ্গলে নিয়ে দলবেঁধে ধর্ষণ করা হয়েছে। 

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারি সার্কেল) আব্দুল্লাহ আল মাসুম বলেন, শুক্রবার রাতে এই ঘটনা ঘটলেও জানাজানি হয় শনিবার রাতে। পুলিশ তদন্তে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে রোববার দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

ফটিকছড়ি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওবায়দুর ইসলাম বলেন, ওই তরুণীর বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালায়। তবে মা-বাবার সঙ্গে চট্টগ্রাম নগরীতে থাকেন এবং একটি কারখানায় চাকরি করেন। ওই তরুণীর সঙ্গে ফকিটছড়ির দাঁতমারা ইউনিয়নের বাসিন্দা এক অটোরিকশাচালক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তারা বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ওই যুবকের পরিবার মেয়েটিকে দেখতে চেয়েছিল। তাই মেয়েটি ফটিকছড়িতে আসে। ওই যুবক ও তার এক বন্ধুর সঙ্গে শুক্রবার মেয়েটি ফটিকছড়ি আসে। তারা ওই তরুণীকে নিয়ে যাওয়ার পথে রাত সাড়ে ৯টার দিকে নারায়ন হাটের ফটিকছড়ি-মিরসরাই সড়কে তিনটি মোটর সাইকেলে করে এসে তাদের পথরোধ করে এবং ফরেস্ট এলাকার ভেতরে নিয়ে সঙ্গী দুই যুবককে আটকে রেখে ওই তরুণীকে দল বেঁধে ধর্ষণ করে।

ধর্ষণকারী দলে আট থেকে ১০ জন ছিল বলে ওই তরুণী পুলিশকে জানিয়েছেন।

ফটিকছড়ি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওবায়দুর ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে মনসুর এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি ওই তরুণীকে থানায় আনার কথা বলে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে ওই তরুণীর প্রেমিকের সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করে।

গ্রেপ্তার আসামিদের সোমবার আদালতে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ পরিদর্শক।