পরিচালককে ওএসডি করার সমালোচনা: উপপরিচালককে শোকজ

সরকারি চাকরিবিধি ভঙ্গের অভিযোগ এনে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. কে এম মামুন মোর্শেদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

রবিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত এ নোটিশ দেওয়া হয় তাকে।

নোটিশে বলা হয়েছে, গত ৫ নভেম্বর নিজ স্বাক্ষর ও উদ্যোগে নোটিশ জারির মাধ্যমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রাক্তন পরিচালকের বদলি আদেশের বিরুদ্ধে হাসপাতালের সব চিকিৎসক, কর্মকর্তা, সেবক/সেবিকা ও কর্মচারীদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। ওই মতবিনিময় সভায় সরকারি আদেশের সমালোচনা ও বিষোদগার করা হয়, যা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯-এর পরিপন্থী এবং সরকারি কর্মচারী ( শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর তিন (বি) বিধি মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এমতাবস্থায় এহেন কার্যকলাপের জন্য কেন আপনার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার ব্যাখ্যা আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রেরণ করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো- বলেও শোকজে উল্লেখ করা হয়।

এ ব্যাপারে ডা. কে এম মামুন মোর্শেদ রবিবার রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, নোটিশ পাইনি। আগামীকাল অফিস গেলে হয়তো পাব। তবে শোকজের কথা শুনেছি। শোকজ তো করতেই পারে। আমি উত্তর দেব। কী বিষয়ে কী কারণে শোকজ করলো, সেটার উত্তর তো অবশ্যই আছে। আমি উত্তর দেব। সরকারি চাকুরিবিধিমালা অনুযায়ি  যে কোনো সমস্যায় শোকজ করতেই পারে।

এর আগে দুর্নীতির অভিযোগে বিভাগীয় মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত তিন নভেম্বর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়াকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। একই নোটিশে হাসপাতালে উপ-পরিচালক ডা. কে এম মামুন মোর্শেদকে ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে গত ৫ নভেম্বর হাসপাতালে ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়ার বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে হাসপাতালের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চিকিৎসকরা অংশ নেন। সেখানে ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া তার বক্তব্যে তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেন।

সেদিন তিনি বলেন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) গত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র’ হচ্ছে। আমি কখনো কোনো কেনাকাটার সঙ্গে জড়িত না। হাসপাতালের কেনাকাটার জন্য টেন্ডার কমিটি ও বাজারদর যাচাই কমিটি, সার্ভে কমিটি রয়েছে। তারা কেনাকাটা করে, আমি প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে কাউন্টার স্বাক্ষর করে একাই অপরাধী হয়ে গেলাম। সরকারি চাকরী বিধিতে বলা হয়েছে, একই উদ্দেশ্যে সংঘটিত কোনো অপরাধের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকে এককভাবে সমান অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন। সমান শাস্তির আওতায় আসবেন।

ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া আরো বলেন, পদায়ন-বদলী স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে যেভাবে সরিয়ে দেওয়া হলো তা বেদনাদায়ক। আমার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে তাতেও আইন ও প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি।