চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের (সিডিএ) নেওয়া ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’র নির্মাণকাজ প্রায় ৪০ শতাংশ শেষ হয়েছে। চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত চার লেনবিশিষ্ট প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পের এরই মধ্যে আট কিলোমিটার অংশের নির্মাণকাজ শেষের দিকে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর যানজট অনেকাংশে কমে যাবে। নানা কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।
প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনার কারণে কিছুদিন নির্মাণকাজ বন্ধ থাকলেও এখন পুরোদমে চলছে। প্রকল্পের প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে মধ্যে পতেঙ্গা বিচ থেকে সল্টগোলা পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার অংশে ১৪০টি পিলারের নির্মাণকাজ হয়েছে। এছাড়াও গার্ডার নির্মাণ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ইতিমধ্যে প্রকল্পের ৪০ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। চলতি জুন মাসে প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল, নানা জটিলতায় এ সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করা যায়নি। এখন ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হতে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত সময় লাগবে। তিনি আরও বলেন, ২০১৭ সালে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পাওয়ার পর গত বছরের জুনে এর কাজ শুরু হয়। বন্দরের নিরাপত্তাজনিত কারণে আপত্তি ওঠার পর বন্দর এলাকার বারেকবিল্ডিং থেকে সল্টগোলা পর্যন্ত তিন কিলোমিটার অংশে নকশার কিছুটা পরিবর্তন করতে হচ্ছে। এখন এই অংশের নকশার ড্রয়িং ও ডিজাইনের কাজ চলছে।
গতকাল সকালে নগরীর সল্টগোলা ও ইপিজেড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এক্সক্যাভেটর দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। বিশাল আকৃতির ক্রেন দিয়ে পাইলিং করা হচ্ছে। শ্রমিকরা ব্যস্ত ঢালাই কাজে। তবে এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলায় সড়ক সরু হওয়ায় যানজট লেগে আছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এই প্রকল্পের অধীনে ৯টি জংশনে ২৪টি র্যাম্প (গাড়ি ওঠা-নামার পথ) থাকবে। এরমধ্যে নগরীর লালখানবাজার থেকে শুরু হওয়া প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়েতে টাইগারপাসে ৪টি, আগ্রাবাদে ৪টি, বারিক বিল্ডিং মোড়ে ২টি, নিমতলা মোড়ে ২টি, কাস্টমস মোড়ে ২টি, সিইপিজেডে ৪টি, কেইপিজেডে ২টি, কাঠগড়ে ২টি এবং পতেঙ্গা সৈকত এলাকায় ২টি র্যাম্প থাকবে। চার লেনের এই এক্সপ্রেসওয়ের প্রশস্ততা হবে ৫৪ ফুট।
সিডিএ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১১ জুলাই বিমানবন্দরকেন্দ্রিক যানজট নিরসনে সিডিএর নেওয়া চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেয় একনেক। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে যৌথভাবে দরপত্র পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ও র্যাঙ্কিন। পরে অনুমোদনের দেড় বছর পর ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পটির পিলার পাইলিং কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন এর ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষ আপত্তি তোলায় নগরীর বারেকবিল্ডিং থেকে সল্টগোলা পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার অংশে নতুন করে নকশা পরিবর্তন করার উদ্যোগ নিয়েছে সিডিএ। সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের উদ্বোধনের পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষ নকশা নিয়ে আপত্তি তোলে। পরে বন্দর কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তা নিষ্পত্তি হয়েছে। এখন আর কোনো সমস্যা নেই। তবে নতুন করে কিছু জায়গা অধিগ্রহণ করতে হবে। ইতিমধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ।