হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতির ছেলে ব্যারিস্টার জুম্মন সিদ্দিকীকে হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের গেজেটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ হয়ে গেছে। ফলে তার আইনজীবী সনদ বৈধ হিসেবে গণ্য হলো বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। গতকাল রবিবার বিচারপতি গোবিন্দ্র চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলের শুনানি শেষে এ রায় দেয়। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে মন্তব্য করায় রিট আবেদনকারী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ও অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ। একই সঙ্গে এ ধরনের রিট আবেদন করে আদালতের কর্মসময় নষ্ট করায় তাদের প্রত্যেককে একশত টাকা করে জরিমানা করেছে আদালত।
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ওই গেজেটের কার্যকারিতার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়ে বার কাউন্সিলের ওই গেজেটের কার্যকারিতা কেন অবৈধ ও বাতিল বলে ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিল হাইকোর্ট। এরই ধারাবাহিকতায় রুলের ওপর শুনানি শেষ হয়। বিচারপতির ছেলের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আমীর-উল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর। আইনজীবী ইশরাত হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাইকোর্ট রুল খারিজ করে দিয়েছেন। কিছুদিন আগে কবি সুকুমার রায়ের ‘বিচার’ কবিতার কয়েকটি পঙক্তি নিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট দিয়েছিলাম। হাইকোর্ট মনে করেছে এতে আদালতকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। যে কারণে রুল দিয়েছে হাইকোর্ট।’ আইনজীবী সায়েদুল হক সুমন সাংবাদিকদের বলেন, ‘অনেক দিন আগে হাইকোর্টের এক বিচারপতির ছেলেকে নিয়ে ফেইসবুকে একটি মন্তব্য করেছিলাম। এ কারণে আদালত রুল জারি করেছে।’
গত ১৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের এক বিচারপতির ছেলে মো. জুম্মান সিদ্দিকীকে হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে ৩১ অক্টোবর গেজেট প্রকাশ করে বার কাউন্সিল।