‘ক্ষমতায় থাকতে বিএনপি দেশকে অন্ধকারে নিয়েছে, এখনো একই অপচেষ্টায়’

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে দেশকে যেভাবে অন্ধকারে নিয়েছে গত এক যুগেও তারা একই অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

মঙ্গলবার নিজের সরকারি বাসভবনে চলচ্চিত্র প্রযোজক ও প্রদর্শক সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে কীভাবে দেশকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে গিয়েছিল, সেটা সবাই জানে। পরবর্তীতে জনগণ যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রায় দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে, তখনো তারা অব্যাহতভাবে গত ১২ বছর ধরে দেশকে অন্ধকারের দিকেই নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।’

আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে, নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ করেছে- বিএনপি এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপির এসমস্ত গৎবাঁধা অভিযোগ আমরা গত এক যুগ ধরে শুনে আসছি। বিএনপি যে জনগণকে নিয়ে ভাবে না, সেটিরই বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে- তাদের সমস্ত বক্তৃতা-বিবৃতি, আন্দোলন-সংগ্রাম সবই নির্বাচন কমিশন আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার কেন্দ্রিক। আর বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করেছে বিএনপি।’

‘বিএনপির জন্মটাই হয়েছে অগণতান্ত্রিকভাবে, সেনা ছাউনির মধ্যে, শতশত সেনাবাহিনীর অফিসার এবং জওয়ানের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে’ দাবি করে ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘তারা (বিএনপি) গণতন্ত্র ধ্বংস করার জন্য শুধু নির্বাচন বর্জনই নয়, নির্বাচন বানচালের জন্য পেট্রল বোমা মেরে শতশত মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাকে বোমা মেরে, পুড়িয়ে হত্যা করেছে। সভ্য দুনিয়ার কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটে নাই।’

এ সময় ১৯৮৭ সালের এই দিনে শহীদ নূর হোসেন স্মরণে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক জীবন্ত পোস্টার হিসেবে সবসময় নূর হোসেনের নাম রক্তাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে, সে সময়ে এই ক্ষেত্রে নূর হোসেনের অবদান চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

চলচ্চিত্র প্রযোজক এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শক মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত মাসের ১৬ তারিখ থেকে সিনেমা হলগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। করোনাসহ নানাবিধ কারণে বিশেষ করে নতুন ছবি মুক্তি পায়নি, সে কারণে সিনেমা হলে আশানুরূপ দর্শক হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি উত্তরণে নতুন সিনেমা মুক্তি দেওয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু, সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস ও আইন সম্পাদক আর এম ইউনুস রুবেল এ সময় উপস্থিত ছিলেন।