সগিরা হত্যা মামলায় আসামি রেজার রিভিশন আবেদন খারিজ

তিন দশক আগের আলোচিত সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলার বিচার শিশু আদালতে চেয়ে আসামি মারুফ রেজার রিভিশন আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে রিভিশন আবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।

আদালত আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে আজ খারিজ করে দিয়েছে।

আদালতে আসামির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী দেওয়ান আবদুন নাসের ও আবুল কালাম আজাদ। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনিরুল ইসলাম, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও ফরিদা পারভীন ফ্লোরা।

এর আগে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত গত ৭ সেপ্টেম্বর এই মামলার বিচার শিশু আদালতে স্থানান্তরের আবেদন খারিজ করে দেয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, সগিরা মোর্শেদ সালাম ১৯৮৯ সালে ভিকারুননিসা নূন স্কুলে মেয়েকে আনতে যান। বিকেল ৫টার দিকে সিদ্ধেশ্বরী রোডে মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা তার হাতে থাকা স্বর্ণের চুড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। নিজেকে বাঁচাতে দৌড় দিলে তার ওপর গুলি করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মারা যান তিনি।

এ ঘটনায় ওই দিনই রমনা থানায় মামলা করেন তার স্বামী আবদুস সালাম চৌধুরী। পরে মিন্টু ওরফে মন্টু ওরফে মরণের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি আসামি মন্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক। সাতজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য গ্রহণকালে মারুফ রেজা নামে এক ব্যক্তির নাম আসায় অধিকতর তদন্তের আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

ওই বছরের ২৩ মে অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন আদালত। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন মামলা (১০৪২/১৯৯১) করেন মারুফ রেজা। যিনি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকটাত্মীয়। ১৯৯১ সালের ২ জুলাই ওই তদন্তের আদেশ ও বিচারকাজ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তদন্তের আদেশ কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। ১৯৯২ সালের ২৭ আগস্ট ওই রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার বিচারকাজ স্থগিত থাকবে মর্মে আরেকটি আদেশ দেওয়া হয়।

এরপর ২০১৯ সালের ২৬ জুন এ মামলার ওপর ২৮ বছর ধরে থাকা স্থগিতাদেশ তুলে নেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলা ৬০ দিনের মধ্যে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) অধিকতর তদন্ত শেষ করতে নির্দেশ দেন।

একই বছরের ২০ নভেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তদন্তের জন্য পিবিআইকে আরও ৬০ দিনের সময় দেন।

এর পর পিবিআই বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। চারজনই হত্যার দায় স্বীকার করে বিচারিক আদালতে জবানবন্দি দেন।