আরাফাতের মৃত্যুবার্ষিকীতে দখলদারি অবসানের প্রত্যয় আব্বাসের

ফিলিস্তিনের অবিসংবাদিত নেতা ইয়াসির আরাফাতের ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৪ সালে এক আকস্মিক অসুস্থতার পর প্যারিসের একটি হাসপাতালে মারা যান তিনি। তখন তার বয়স হয়েছিল ৭৫।

১৯২৯ সালে কায়রোতে জন্ম নেয়া আরাফাত আজীবন ইসরায়েলি দখলদারির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন। তিনি ছিলেন প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) চেয়ারম্যান। ফিলিস্তিন সরকারের প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন আরাফাত।

২০০২ হতে ২০০৪ সালের শেষভাগ পর্যন্ত পিএলও সদর দপ্তর রামাল্লায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হাতে কার্যত গৃহবন্দী ছিলেন তিনি। ২০০৪ এর শেষদিকে আরাফাত অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কোমায় চলে যান। সে বছর ১১ নভেম্বর তিনি প্যারিসে মারা যান।

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণকে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল। তবে ইসরায়েলি বাহিনী তাকে হত্যা করে বলে বিতর্ক তৈরি হয়। এমন সন্দেহ থেকে প্রায় আট বছর পর আরাফাতের দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়।

এক বছর তাকে নিয়ে গবেষণার পর সুইস বিজ্ঞানী বলছেন, তার হাড়ে যে পরিমাণ পোলিনিয়াম নামে একটি তেজস্ক্রিয় পদার্থ পাওয়া গেছে তা মানবদেহের স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে ১৮ গুণ বেশি। তেজস্ক্রিয় পদার্থ প্রয়োগ করে ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের এই নেতাকে হত্যা করা হয় বলে সুইস গবেষকদের ধারণা।

এদিকে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ওয়াফায় ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া এক বিবৃতিতে ইহুদি দখলদারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ফিলিস্তিনের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।

তিনি বলেন, ‘আমাদের শহীদদের আত্মা, আহতদের রক্ত এবং আমাদের বন্দীদের দুর্ভোগের প্রতি অনুগত থাকতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

মাহমুদ আব্বাস বলেন, ‘ইসরায়েলি দখলদারি অবসানে আমরা কাজ চালিয়ে যাব এবং ফিলিস্তিনকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব। পূর্ব জেরুজালেম হবে এর রাজধানী। জনগণ ও জন্মভূমির ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।’