কমলাকে নিয়ে পোস্টে যা বললেন স্বামী এমহফ

কমলা হ্যারিস যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে যখন প্রথম নারী ও কৃষ্ণাঙ্গ ভাইস-প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন, তখন বিরল এক নজির গড়তে যাচ্ছেন তার স্বামী ডগ এমহফও। হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে প্রথম ‘সেকেন্ড জেন্টেলম্যান’ হচ্ছেন তিনি।

স্ত্রী কমলাকে অভিনন্দন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পোস্ট দিয়েছেন এমহফ। স্ত্রীকে আলিঙ্গন করে আছেন এমন একটি ছবিও পোস্ট করেন তিনি। রবিবারের সেই পোস্টে এমহফ লেখেন, ‘আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত।’

অন্যদিকে কমলাও তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারীদের কাছে পরিচয় করিয়ে দেন স্বামীকে। ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ ইনস্টাগ্রামে এ ডেমোক্র্যাট নেত্রীকে অনুসরণ করে থাকে।

গতকাল ইনস্টাগ্রামে স্বামীর সঙ্গে ছবি পোস্ট করেন কমলা। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমার জীবনের ভালোবাসা ডগলাস এমহফের সঙ্গে পরিচিত হন।’

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময়ের একটি ছবিও শেয়ার করেন কমলা। ছবিটিতে এমহফের এক প্রতিক্রিয়ায় স্ত্রীর সঙ্গে খুনসুটিও প্রকাশ পায়। তিনি লেখেন, ‘নির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট ম্যাডাম তোমাকে ভালোবাসি।’

কমলা ও এমহফ ২০১৪ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। উভয়ের বয়স ৫৬ বছর। এটা ভারতীয় বংশোদ্ভূত মায়ের সন্তান কমলার প্রথম বিয়ে হলেও শ্বেতাঙ্গ এমহফের দ্বিতীয় বিয়ে। বন্ধুদের এক আড্ডায় দুজনের দেখা হয়। প্রথম দেখাতেই কমলার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন এমহফ।

হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও সেকেন্ড জেন্টলম্যান পদে প্রথম মিশ্র বর্ণের কোনো দম্পতিকে দেখা যাবে এবার।

স্ত্রী কমলা ভাইস-প্রেসিডেন্ট হওয়ায় এমহফের নতুন পরিচিতি হবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেকেন্ড হাসবেন্ড’, উপাধিটা ‘সেকেন্ড জেন্টেলম্যান’ হিসেবে বেশি পরিচিত। তবে এই দুয়ের মধ্যে এমহফ কোনটি বেছে নেবেন তা এখনো ঠিক করা হয়নি।

ঐতিহ্যগতভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস-প্রেসিডেন্টের স্বামী-স্ত্রীরা পারস্পরিক সমর্থন ও স্বাধীনতার একটি ভারসাম্য রক্ষা করে চলেন। কখনো কখনো নানা দাতব্য কাজে সম্পৃক্ত হন তারা।

এবারের নির্বাচনে এমহফকে কোনো সরাসরি কার্যক্রমে দেখা না গেলেও স্ত্রী কমলার প্রচারণায় তাকে ‘গোপন অস্ত্র’ হিসেবে কাজ করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব উপস্থিতি ছাড়াও প্রতিষ্ঠিত এক আইনজীবী তিনি। গণমাধ্যম, ক্রীড়া ও বিনোদন বিষয়ক আইনে বিশেষ পারদর্শিতা রয়েছে তার।