নিউমোনিয়ায় দেশে প্রতি ঘণ্টায় ৩ শিশুর মৃত্যু

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রতি ঘণ্টায় তিনটি শিশু মারা যায়। এ হিসাবে প্রতিদিন ৬৭, আর প্রতি বছর ২৪ হাজার ৩০০ শিশু মারা যায় এই রোগে। দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রোগ প্রতিরোধের বিষয়টি যতটা গুরুত্ব পাওয়ার কথা, ততটা পাচ্ছে না। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সঙ্গে আইসিডিডিআর,বির এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। আজ বৃহস্পতিবার ‘বিশ^ নিউমোনিয়া দিবস’ উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করে রিসার্চ ফর ডিসিশন মেকার্স (আরডিএম) এবং ডেটা ফর ইমপ্যাক্ট (ডিএফআই)।

সভার শুরুতে আইসিডিডিআর,বির মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের গবেষণাপ্রধান কামরুন নাহার বলেন, গত দুই দশকে স্বাস্থ্য খাতে অনেক উন্নতি হয়েছে। শিশুমৃত্যু কমানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও এখনো নিউমোনিয়ার কারণে প্রতি বছর পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ২৪ হাজার ৩০০ শিশু মারা যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে আইসিডিডিআর,বির মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী বিজ্ঞানী আহমেদ এহসানুর রহমান শিশুমৃত্যুর বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘২০১১ সালে দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রতি এক হাজার জীবিত জন্ম নেওয়া শিশুর মধ্যে ১১ দশমিক ৭টি শিশু মারা যেত নিউমোনিয়ায়। আর বর্তমানে সেই সংখ্যা ৮ দশমিক ১। কিন্তু বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতি এক হাজার জীবিত জন্ম নেওয়া শিশুর মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা তিনটিতে নামিয়ে আনতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে যেসব শিশু নিউমোনিয়ায় মারা যায়, তার ৫২ শতাংশই মারা যাচ্ছে বাড়িতে। তারা কোনো ধরনের চিকিৎসাও পায় না। অন্যদিকে ৩ শতাংশ শিশু চিকিৎসা পেয়েও বাড়িতে মারা যাচ্ছে। আবার হাসপাতালে বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসার পরেও নিউমোনিয়ায় মারা যাচ্ছে ৪৫ শতাংশ শিশু। তাই নিউমোনিয়ার লক্ষণ চিহ্নিত শিশুদের বাড়িতে রাখা যাবে না।’

সভায় ঢাকা শিশু হাসপাতালের অধ্যাপক ও শিশু নিউমোনিয়া বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রুহুল আমিন বলেন, দেশে পাঁচ বছরের শিশুদের মৃত্যুর মধ্যে নিউমোনিয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ মৃত্যুর কারণ। আর এ মৃত্যু প্রতিরোধের বড় উপায় জন্মের পর ছয় মাস পর্যন্ত শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো। ছয় মাস পর থেকে মায়ের বুকের দুধের সঙ্গে ঘরে তৈরি খাবার খাওয়াতে হবে।

অনুষ্ঠানে চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সমীর সাহা বলেন, ‘নিউমোনিয়া কোন জীবাণুর কারণে হচ্ছে সেটির ৫০ শতাংশই এখনো অজানা। সেটি কি ভাইরাসের মাধ্যমে হচ্ছে, নাকি ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে, তা জানা নেই। এটি জানার উপায় আছে, কিন্তু ইচ্ছে নেই। নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করতে হলে এই কারণ জানার উদ্যোগ নিতে হবে।’ অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন ইউএসএইড বাংলাদেশের মনিটরিং, ইভালুয়েশন অ্যান্ড রিসার্চের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কান্তা জামিল।