ইথিওপিয়ায় উত্তরাঞ্চলে বড় ধরনের হত্যাযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
বিবিসি জানায়, সোমবার টাইগ্রে এলাকায় সংগঠিত এ হত্যাযজ্ঞের জন্য প্রত্যক্ষদর্শীরা টাইগ্রে লিবারেশন ফ্রন্ট-টিপিএলএফ সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দায়ী করছে। যদিও তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
গত সপ্তাহে ইথিওপিয়ার একেবারে উত্তরে অবস্থিত টাইগ্রে এলাকায় বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত শুরু হয়।
ওই এলাকায় হামেরা শহরের কাছে একটি বিমানবন্দরও দখলে নিয়ে নেয় বিদ্রোহীরা। পরবর্তীতে সেটি পুনর্দখল করে ইথিওপিয়ার সেনাবাহিনী।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টাইগ্রেতে ফোন লাইন এবং ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত করা হয়েছে। ফলে সংঘাত নিয়ে সহজে কোনো তথ্য মিলছে না।
সংঘাত শুরু হওয়ার পর ওই এলাকায় এ প্রথম বড় ধরনের কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। বেসামরিক লোকেরা এর শিকার হয়েছে বলে জানায় অ্যামনেস্টি।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, ৯ নভেম্বর রাতে টাইগ্রে এলাকার দক্ষিণ পশ্চিম জোনের মাই কাদরা শহরে প্রায় কয়েকশ’ মানুষকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
অ্যামনেস্টি আরও জানায়, শহরটি জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা দেহ এবং সেগুলোকে স্ট্রেচারে বহন করে নিয়ে যাওয়ার সময় তোলা ছবি ও ভিডিও পর্যবেক্ষণ করে নিহতদের এ সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নিহতরা পেশায় শ্রমিক ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে, সংঘাতের সঙ্গে যাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না।
টাইগ্রে, ইরব এবং কুনামা নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল ইরিত্রিয়া ও সুদান সীমান্তবর্তী টাইগ্রে। ২০১৮ সাল থেকে নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীগুলো সরকারি বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করে আসছে।
ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ ক্ষমতা গ্রহণের পরই অশান্ত হয়ে ওঠে টিপিএলএফ অঞ্চলটি।
দীর্ঘদিন ধরে ইথিওপিয়ার ক্ষমতাসীনদের শক্তিশালী মিত্র ছিল টাইগ্রে নেতারা। তবে আবি আহমেদ ক্ষমতায় আসলে তার প্রতি সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানান তারা।
গত সপ্তাহে টাইগ্রে নেতাদের প্রতি অনুগত বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। সামরিক ঘাঁটিতে হামলার জেরে এই অভিযান শুরু হয়েছে বলে দাবি করে দেশটির সরকার।
এমন পরিস্থিতিতে ওই এলাকায় সংঘাত আরও তীব্র রূপ ধারণ করে, যার জেরে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক ইতিমধ্যে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী সুদানে আশ্রয় নিয়েছে। টাইগ্রে এলাকায় মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে।