৮৬ বছরেও চিরনতুন সোফিয়া লরেন। সম্প্রতি এই অভিনেত্রী বললেন, শরীর বদলায়, মন নয়। আসলেই! এ বয়সে এসেও তিনি উজ্জ্বল, নতুনত্বের খোঁজ করছেন অবিরাম। নতুন ছবি ‘দ্য লাইফ অ্যাহেড’ প্রসঙ্গে আলাপচারিতায় এ কথা বললেন।
সোফিয়ার ছোট ছেলে এডোয়ার্ডো পন্টি পরিচালিত ড্রামাধর্মী সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে রোমান গ্যারির ‘দ্য লাইফ বিফোর অ্যাস’ উপন্যাস অবলম্বনে। আরও অভিনয় করেছেন ইব্রাহিমা গুয়ে ও আব্রিল জামোরা। ৬ নভেম্বর সীমিত পরিসরে মুক্তির পর নেটফ্লিক্সে এই শুক্রবার থেকে দেখতে পাচ্ছেন সারা বিশ্বের দর্শকেরা।
একুশ শতকের গল্পে জাদু বাস্তবতার মিশ্রণ ঘটিয়ে বলা হয়েছে মাদাম রোসার গল্প। দক্ষিণ ইতালির একজন প্রাক্তন যৌনকর্মী রোসা। যার অতীত জীবন আর বর্তমানের গল্পে পা গলিয়েছেন সিনে দুনিয়ার অন্যতম অভিজাত নারী লরেন। এডোয়ার্ডো পন্টি ছবিটি নির্মাণের ক্ষেত্রে নিজের পারিবারিক ইতিহাস আমলে নিয়েছেন। নানা-নানী, মা, বাবা কার্লো পন্টি সিনিয়র ও মায়ের প্রেমিক কেরি গ্রান্টকে স্মরণ করেছেন।
সোফিয়া জানান, ‘দ্য লাইফ অ্যাহেড’ তাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে পুরোনো দিন। ষাট দশকের বিখ্যাত সিনেমা ‘ইয়েস্টারডে, টুডে অ্যান্ড টুমোরো’ ও ‘ম্যারেজ ইটালিয়ান স্টাইল’-এ অভিনীত চরিত্রগুলো সঙ্গে যেন লড়েছেন। তাই তো এই উপলব্ধি, ‘কোনো কিছুই খুব একটা বদলায় না’ বা ‘শরীর বদলায়, মন তো নয়’। বলছিলেন দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকাকে।
পরিকল্পনা ছিল রোমে এ ছবির প্রিমিয়ার হবে, কিন্তু করোনার আবহে তো দুনিয়া থেমে গেছে কয়েক মাস। তখন জেনেভায় সোফিয়া লরেনের লিভিং রুমে মা-ছেলে ছবিটি দেখেন। ছেলে এতেই খুশি, কিন্তু মায়ের মন পড়েছিল পুরোনো আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে। আসলেই তো! সোফিয়া লরেনের তুলনায় কত ছোট আয়োজনে ছবি দেখা! কিন্তু পরিস্থিতি তো মেনে নিতে হয়।
যে কোনো বড় নির্মাতার মতোই ‘দ্য লাইফ অ্যাহেড’ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় ভরপুর। তার ভালো উদাহরণ হলো গ্যারি প্যারিসের গল্প বললেও পন্টি আড্রিয়াটিক বন্দর শহর বারিকে করেছেন প্রেক্ষাপট। যেখানে তিনি মুসলিম ও ইহুদি, সাধু ও পাপী এবং সব প্রধান ধর্মগ্রন্থের অভিবাসীদের চিত্রিত করেছেন। যা নেপলসের কাছাকাছি লরেনের জন্মস্থান পোজজুলির মতোই। তা অবশ্যই ইচ্ছাকৃত। তবে এই তুলনা অনেকটাই অসম্ভব বলে জানান লরেন। কারণ সেখানে তিনি তিন-তিনটি যুদ্ধ দেখেছেন। রাত-দিন ক্ষুধার সঙ্গে লড়েছেন। সেখানে হয়তো ফেরা সম্ভব নয়, কারণ, সেই সময়ে ‘সবকিছুই আমাদের বিরুদ্ধে ছিল। প্রতি রাতেই আমরা মরে যেতে পারতাম’।
আসলেই সে জীবনের সঙ্গে কিছুই তুল্য নয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত ক্যাথলিক ইতালিতে বাবার স্বীকৃতিহীন শিশু হিসেবে বেড়ে ওঠা সোফিয়া লরেন। খ্যাতির শিখরে তার আসার আগের গল্প ফিকশনকেও হার মানায়। তার মা রোমিল্ডা ভিলানি ছিলেন উঠতি অভিনেত্রী। তিনি জিতেছিলেন গ্রেটা গার্বো লুকঅ্যালাইক প্রতিযোগিতায়। সামনে ছিল আমেরিকায় গিয়ে ভালো সুযোগ পাওয়ার হাতছানি। দুই সন্তান ও কপর্দকহীন অবস্থায় নেপলসে থাকতে বাধ্য হন। আর একটু একটু করে সামনে এগিয়ে যান সোফিয়া লরেন। এ সব ঘটনাকে মাদাম রোজাকে সামনে রেখে ভাবতে বাধ্য হয় তিনি। কারণ রোসাও লড়াকু স্বভাবের। যা শুধু সোফিয়ার নিজের গল্প নয়, তার মা পিয়ানো টিচার রোমিল্ডার সংগ্রামের গল্পও। সে অর্থে সোফিয়া বা তার ছেলে পন্টির কাছে ‘দ্য লাইফ অ্যাহেড’ খুবই কাছের। গল্প ভিন্ন, কিন্তু টিকে থাকার এক চিরায়ত লড়াই।